কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছবি: পিটিআই
দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে জঙ্গি কার্যকলাপ সমর্থনকারী সহায়ক ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করে তা নির্মূল করার উপরে জোর দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে আজ দিল্লিতে ইনটেলিজেন্স বুরোর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন শাহ। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘সন্ত্রাসকে খতম করতে সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গেই তাঁদের যে ‘সার্পোট সিস্টেম’ বা সহায়ক ব্যবস্থা রয়েছে, তাকেও একসঙ্গে নির্মূল করতে হবে। তবেই সামগ্রিক ভাবে সাফল্য পাওয়া সম্ভব।’’ সম্প্রতি দেশ জুড়ে ধরপাকড় চালিয়ে নাশকতার ছড়ানোর অভিযোগে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া (পিএফআই)-র বেশ কিছু সদস্যকে গ্রেফতার করে জাতীয তদন্তকারী সংস্থা(এনআইএ)।
মৌলবাদী ওই সংগঠনটি দেশে সন্ত্রাসমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পাঁচ বছরের জন্য ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। যদিও ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি যাঁরা মূলত বুদ্ধিজীবী, যাঁদের পরোক্ষে ওই সংগঠনের কাজে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ধরপাকড় এখনও জারি রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকদের একাংশের মতে, যারা নাশকতার কাজে সরাসরি যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে খতম করা সহজ। কিন্তু বহু বুদ্বিজীবী, শিক্ষিত মানুষ রয়েছেন, যাঁরা গোপনে দেশবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত। যাঁদের কাজই হল, মৌলবাদকে উস্কে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপকে পরোক্ষ গতি দেওয়ার। মূলত সন্ত্রাসের সমর্থনকারী সেই ‘সাপোর্ট সিস্টেম’-কে চিহ্নিত করার উপরে জোর দিয়েছেন শাহ।
কয়েক দিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে একই সুরে বক্তব্য রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সশস্ত্র মাওবাদীদের পাশাপাশি, নকশালপন্থী মনোভাবাপন্ন বুদ্ধিজীবীদের চিহ্নিত করে তাঁদের ধরপাকড়ের উপরে জোর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘বন্দুক ধরে যে, সে যেমন মাওবাদী, তেমনি যে ব্যক্তি লেখনীর মাধ্যমে মাওবাদকে উৎসাহ দেন তিনিও নকশালপন্থী। দু’জনেই দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। তাই এদের সকলকে চিহ্নিত করতে হবে।’’ আজ সেই সুরেই সন্ত্রাসমূলক কাজে অর্থ, লোকবল কিংবা লেখনীর মাধ্যমে যাঁরা মদত দিয়ে থাকেন, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার উপরে জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আজকের বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সম্বন্বয় ও ‘রিয়েল টাইম’-তথ্য আদানপ্রদানের উপরেও গুরুত্ব দেন শাহ। একই সঙ্গে, মুম্বই হামলার মতো জলপথের জঙ্গি হামলা এবং মাদকের প্রবেশ রুখতে সমুদ্র পথ ও বন্দরগুলিতে কড়া নজরদারির সওয়াল করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।