শরদ পাওয়ারের দিল্লির বাসভবনে বৈঠকে উপস্থিত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং রাহুল গান্ধী। ছবি: পিটিআই।
শরদ পওয়ার থেকে সঞ্জয় রাউতেরা বলেছেন, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা পশ্চিমবঙ্গ। কারণ, ‘ইন্ডিয়া’-য় কংগ্রেস, তৃণমূল, বামদলগুলি এক মঞ্চে থাকলেও রাজ্য রাজনীতিতে তাঁরা বিবদমান। এই পরিস্থিতিতে ‘ইন্ডিয়া’-র পরবর্তী বৈঠক বা প্রথম জনসভা কলকাতায় করার প্রস্তাব উঠে এল জোটের মধ্যে থেকে।
তৃণমূল সূত্র বলছে, তৃণমূল এই প্রস্তাব দেয়নি। কলকাতায় ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠক হলে তৃণমূলের আপত্তি নেই। তবে ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠক বা জনসভার আগে তৃণমূল আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে চায়। আগে তা নিয়ে ফয়সালা প্রয়োজন। কংগ্রেস সূত্রের খবর, দিল্লি বা মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়ে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক ডাকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেস বিধানসভার ভোটমুখী রাজ্যে ইন্ডিয়া-র বৈঠক করতে চাইলেও সমাজবাদী পার্টি ও আম আদমি পার্টি দিল্লিতে বৈঠকে আগ্রহী। তাঁদের মতে, কংগ্রেস শাসিত কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে এক বার বৈঠক হয়েছে। ফের মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়ে বৈঠক হলে ‘ইন্ডিয়া’-য় কংগ্রেসের প্রাধান্য বাড়বে।
আজ দিল্লিতে এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করেন। রাহুল গান্ধীও হাজির ছিলেন। সূত্রের খবর, পওয়ার রাহুলকে মহারাষ্ট্রের একটি কৃষক উৎসবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মহারাষ্ট্রে প্রকাশ অম্বেডকরের বঞ্চিত বহুজন আঘাড়ী ‘ইন্ডিয়া’-য় যোগ দিতে আগ্রহী। প্রকাশের দল এর আগে মহারাষ্ট্রে বিজেপি বিরোধী ভোট কেটেছে। এ নিয়ে খড়্গে-রাহুলের সঙ্গে পওয়ারের আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পওয়ার ‘ইন্ডিয়া’-র সমন্বয় কমিটির প্রবীণতম সদস্য। এমনিতেই তিনি নিজের দল এনসিপি-তে ভাঙন নিয়ে জেরবার। ভাইপো অজিত পওয়ার ও প্রফুল্ল পটেলরা দল ভেঙে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এখন এনসিপি-র নাম ও প্রতীক দাবি করছে। তা নিয়ে আজ নির্বাচন কমিশনে প্রথম দফার সওয়াল-জবাব হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে পওয়ার আরও বেশি করে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জোর দিতে চাইছেন। কিন্তু তাঁর বাড়িতে ‘ইন্ডিয়া’র সমন্বয় কমিটির বৈঠকে রাজ্যে রাজ্যে বিরোধীদের আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হলেও কোনও রাজ্যেই আলোচনা শুরু হয়নি। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে। পওয়ার চাইছেন, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম বিধানসভা ভোটে লড়াই করলেও লোকসভা ভোটে তারা একসঙ্গে লড়ুক। এ জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া আক্রমণ থেকে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীকে বিরত থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর মত, ইডি-র হানার বিরুদ্ধেও সব দল এককাট্টা হোক।
আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিংহকে গ্রেফতারির বিরুদ্ধে তাঁর পাশে দাঁড়ালেও বৃহস্পতিবার কংগ্রেস মনে করিয়ে দিয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত আম আদমি পার্টি শাসিত পঞ্জাবে কংগ্রেস নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই শর্ত রেখে পাশে দাঁড়ানো নিয়ে আজ আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল বলেছেন, ‘‘এতে কী হেরফের হয়ে যায়?” উল্টো দিকে পঞ্জাবের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রতাপ সিংহ বাজওয়া আজ ফের সওয়াল করেছেন, পঞ্জাবে কংগ্রেস ও আপের আসন সমঝোতা হওয়া উচিত নয়। কারণ, সেখানে আপ শাসক দল, কংগ্রেস প্রধান বিরোধী দল। দুই দলের সমঝোতা হলে অন্য কেউ তার ফায়দা তুলবে।