খোলা আকাশের নীচে দৌড়নো বেশি উপকারী। ছবি: সংগৃহীত।
নিয়মিত শরীরচর্চার কিছু সুফল রয়েছে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ছাড়াও ভিতর থেকে ফিট থাকতে শরীরচর্চার কোনও বিকল্প নেই। অনেকেই তাই রোজ জিমে যান। আবার কেউ বাড়িতেই ব্যায়াম কিংবা যোগাসন করেন। তবে ঘাম ঝরানোর আরও অনেক পথ আছে। এই যেমন অনেকেই নিয়ম করে দৌড়তে যান। কয়েক কিলোমিটার পথ দৌড়েই পাড়ি দেন। চিকিৎসকেদের মতে, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত জিমে ট্রেডমিলে দৌড়নোর চেয়ে খোলা আকাশের নীচে দৌড়নো তুলনায় বেশি উপকারী। তবে শুধু দৌড়লেই হবে না। সেই সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করতে হবে নিয়ম মেনে। তবেই মিলবে সুফল।
দৌড়লে শারীরিক পরিশ্রম বেশি হয়। ওজন ঝরার পাশাপাশি শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকিও থেকে যায়। সেই কারণে খাওয়াদাওয়ায় জোর দিতে হবে। খালি পেটে দৌড়তে বারণ করা হয় সাধারণত। আবার ভারী কোনও খাবার খেয়েও দৌড়নো ঠিক নয়। নিয়মিত যাঁরা দৌড়তে যান, কী ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা জরুরি?
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
ফিট থাকতে ফ্যাট ছাড়া জরুরি। তবে দৌড়ঝাঁপ করলে রোজের পাতে অল্প হলেও ফ্যাট রাখার কথা বলছেন পুষ্টিবিদেরা। ফ্যাট মানেই তা ক্ষতিকর নয়, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও রয়েছে। তেমন খাবার বেছে নেওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে এমন খাবার বেশি করে খাওয়া জরুরি। দৌড়লে বেশি ঘাম হয়। তার ফলে অনেক সময় শরীর ভিতর থেকে শুকিয়ে যায়। প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে এই ধরনের খাবার খাওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্যকর উপাদান
শুধু ফ্যাট নয়, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, মিনারেলসের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিয়ম করে খেতে হবে। দিনে মোট ছয়টি মিল খাওয়া জরুরি। তার মধ্যে তিনটে বড় আর বাকি তিনটে ছোট। মাংস, মাছ, সবুজ শাকসব্জি, ডিমের সাদা অংশ, সয়া মিল্ক, বাদামের মতো খাবার বেশি করে খেতে হবে।
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল
কায়িক পরিশ্রম বেশি হলে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হয়। তাই নিয়ম করে দৌড়নোর অভ্যাস থাকলে জল খেতে হবে বেশি করে। শরীরে যদি জলের পরিমাণ কমে যায়, সে ক্ষেত্রে দৌড়েও কোনও সুফল পাওয়া যাবে না।
শরীরের চাহিদা বুঝে ডায়েট
শরীরের কাঠামো সকলের আলাদা। ফলে খাবারের চাহিদা সকলের ক্ষেত্রে একই রকম নয়। কারও শরীরের ক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেট বেশি প্রয়োজন, কারও ফাইবার। দৌড়নোর অভ্যাস থাকলে ডায়েটের তালিকা পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করা জরুরি।