পায়েল সরকার ও রাজ ভৌমিক। ছবি: সংগৃহীত।
কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া আরজি কর-কাণ্ডের রেশ এখনও টাটকা। গত জুলাইয়ের এই অঘটনের কথা ভুলতে পারেনানি শহরবাসী। আদালত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করলেও রায়ে খুশি নন অনেকেই। এমন পরিস্থিতিতে ২৫ এপ্রিল মুক্তি পেতে চলেছে মিলন ভৌমিকের নতুন ছবি ‘প্রশ্ন’। আনন্দবাজার ডট কমকে পরিচালক জানিয়েছেন, ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করেছেন এই ছবিতে। কিছু প্রশ্নও তুলেছেন। নির্যাতিতার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পায়েল সরকার। রয়েছেন রাজেশ শর্মা, তুলিকা বসু, খরাজ মুখোপাধ্যায়, রাজ ভৌমিক, সুদীপ মুখোপাধ্যায়, স্বাগতা মুখোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, মৌবনি সরকার, সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে। অভিনেতাদের প্রথম লুক প্রকাশ্যে আনল আনন্দ বাজার ডট কম।
নির্যাতিতার ভূমিকায় অভিনয় মুখের কথা নয়। এমন স্পর্শকাতর চরিত্রে অভিনয়ের আগে নিজেকে কী ভাবে প্রস্তুত করেছিলেন?
আনন্দবাজার ডট কমের প্রশ্নে পায়েল বললেন, “এই ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনা আমাদের ছুঁয়ে যায়। ফলে না চাইতেই সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকি। আমিও সেটাই করেছি।” তাঁর মতে, সত্য ঘটনা অবলম্বনে কোনও ছবি হলেও সেখানে কল্পনার অবকাশ থাকে। বাকিটা তাই তিনি নিজের অনুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। অভিনয়ের খাতিরে একটি মেয়ে আর একটি মেয়ের উপর ঘটে যাওয়া অন্যায় নিজের মধ্যে ধারণ করেছেন। রাগ না দুঃখ হয়েছে? পায়েলের দাবি, অবাক হয়েছেন। বিরক্ত হয়েছেন। বোঝার চেষ্টা করেছেন, সমাজ কতটা নীচে নেমেছে! অভিনয় করতে করতে কখন যে মনে মনে সেই ‘নির্যাতিতা’ হয়ে উঠেছেন, বুঝতেই পারেননি। যার জেরে তিনি ক্লান্ত, অবসন্ন।
ছবির মাধ্যমে কি ‘প্রকৃত সত্য’ প্রকাশ্যে আসবে?
‘প্রশ্ন’ ছবির একটি দৃশ্যে রাজ-পায়েল। ছবি: সংগৃহীত।
পায়েলের কথায়, “এটা দেখাতে পারবে, কোনও রাজনৈতিক দল এই নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত নয়। নারী নির্যাতন আমাদের সমাজের শিরা-উপশিরায়। ঘরে ঘরে আজও এই ব্যাধির দাপট। আমরা অন্যায় চাপা দিতে শাসনব্যবস্থাকে দায়ী করি।”
এই ছবির মাধ্যমে অনেক বছর পর বড় ছবি পরিচালনায় মিলন। পায়েলের এই কথার সূত্র ধরেই তাঁর কাছে প্রশ্ন ছিল, চিন্তাভাবনা করেই বিষয় নির্বাচন করেছেন? পরিচালকের দাবি, সমাজের ন্যায়-অন্যায় ছবি বা নাটকের মাধ্যমে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা পরিচালকের দায়। সমাজের প্রতি সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি এই বিষয় নির্বাচন করেছেন। ৩৭ দিন ধরে কলকাতা, ঝাড়খণ্ড, অসম-সহ বিভিন্ন জায়গায় শুট হয়েছে। প্রযোজনায় কে.এস.এম কম্বাইন। প্রসঙ্গত, ছবিটি ইউ+এ১৬ শংসাপত্র পেয়েছে সেন্সর বোর্ড থেকে। কারণ হিসেবে পরিচালক জানিয়েছেন, ছবিটির সঙ্গে বিচারাধীন আরজি কর-কাণ্ডের সাদৃশ্য থাকলেও কোথাও শালীনতা লঙ্ঘন করা হয়নি। পুরোটাই দেখানো হয়েছে প্রতীকী হিসাবে। সরকারপক্ষ, সিবিআই, আদালত— কাউকেই ছোট করে দেখানো হয়নি। পাশাপাশি, ছবিতে প্রকৃত ধর্ষণ এবং হত্যার দৃশ্য দেখানো হয়নি। তাই ইউ+এ১৬ শংসাপত্র পেয়েছে ‘প্রশ্ন’।
বর্তমানে বাংলা ছবি দেখতে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যান না বলে অভিযোগ এক শ্রেণির সিনেমাপ্রেমীর। ‘প্রশ্ন’ জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে তৈরি। তা হলে কি দর্শক ছবি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যাবেন? জবাবে পরিচালক-নায়িকা একজোট। জানিয়েছেন, তাঁরা এই বিষয়ে ইতিবাচক, বাকিটা দর্শকের উপর।