ঋত্বিকা সেন, সৌমিতৃষা কুণ্ডুকে কটাক্ষ ভিভান ঘোষের? ছবি: ফেসবুক।
দিন কয়েক ধরে টলিপাড়ায় গুঞ্জন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে নাকি শাসকদলের হয়ে লড়তে পারেন অভিনেত্রী ঋত্বিকা সেন, সৌমিতৃষা কুণ্ডু। ঋত্বিকা বড়-ছোট পর্দা এবং সিরিজ়ের জনপ্রিয় মুখ। সৌমিতৃষাও তা-ই। উভয় অভিনেত্রীই দীর্ঘ দিন ধরে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ। তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন প্রচারে অংশ নিতে দেখা যায় এঁদের। একই ভাবে রাজ্য সরকার আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে দেখা যায় তাঁদের।
এর আগেও একাধিক লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বাংলা বিনোদন দুনিয়ার খ্যাতনামীরা দাঁড়িয়েছেন। অনেকে ভোটে জিতেছেন, অনেকে পারেননি। সফলদের তালিকায় দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তী, নুসরত জাহান, রাজ চক্রবর্তী, সোহম চক্রবর্তী এবং আরও অনেকে। মিমি, নুসরত শাসকদলের প্রাক্তন সাংসদ। রচনা নবনির্বাচিত সাংসদ। দেব এখনও সাংসদ পদে রয়েছেন। বিধায়ক এবং কাউন্সিলর পদেও একই ভাবে টলিউডের জয়ী প্রার্থীরা রয়েছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন কি ঋত্বিকা, সৌমিতৃষা?
খবরের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই আনন্দবাজার ডট কমের কাছে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাংলা ধারাবাহিকের আর এক জনপ্রিয় মুখ ভিভান ঘোষ। নাম না করে তাঁর কটাক্ষ, “একদল আছেন, যাঁরা দলের দুঃসময়ে নেই। ভাল সময় এলেই চলে আসেন, আখের গুছিয়ে নেন।” ভিভানের নিশানায় কি চর্চিত দুই অভিনেত্রী?
প্রশ্ন রাখতেই অভিনেতা জানিয়েছেন, এই দুটো নাম তাঁর কানেও এসেছে। তিনি ঘটনা সত্যতা সম্পর্কেও কিছুই জানেন না। ভিভানের যুক্তি, “ঘটনা সত্যি হলে বলার কিছু নেই। মিথ্যা হলেও বলব, এ রকম কিছু মানুষ টলিউডের অন্দরেই আছেন। যাঁরা দলের ভাল সময়ে আসেন। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর আশপাশে ঘোরাঘুরি করেন। নিজের কাজ হাসিল হলে আর তাঁদের দেখা যায় না।” তাঁর অভিযোগ, “আমি এবং আমার মতো অনেকে আছেন, যাঁরা অভিনয়ের পাশাপাশি দলের সমস্ত কাজে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। ২০২১ সাল থেকে নাগাড়ে সব সময় মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আছি। খেয়াল করে দেখেছি, সুসময়ে আমাদের ডাক পড়ে না।”
যাঁদের নিয়ে এত চর্চা তাঁরা কী বলছেন? জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল সৌমিতৃষার সঙ্গে। অভিনেত্রীর ফোন বেজে গিয়েছে। তিনি সাড়া দেননি। কথা বলেছেন ঋত্বিকা। জানিয়েছেন, যা রটেছে তার কিছুই ঘটছে না।
অপর্ণা সেনের ‘আরশিনগর’-এর নায়িকার বক্তব্য, “এমনও দিন গিয়েছে, দলের ৪০টি প্রচারে টানা অংশ নিয়েছি। এ ছাড়া, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যখন ডেকেছেন তখনই সাড়া দিয়েছি। ফলে, সেই জায়গা থেকে এই ধরনের ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে।” পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছেন, তাঁর কাছে বিষয়টি নিয়ে অনেক ফোন এসেছে। সকলের একটাই প্রশ্ন, ঋত্বিকা রাজনীতিতে আসছেন? আনন্দবাজার ডট কম মারফত তিনি সকলকে বলেছেন, “রাজনীতি বুঝি না। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার মতো বয়সও আমার হয়নি। তার পরেও কোনও দিন সুযোগ এলে অবশ্যই বিবেচনা করব।” সেই সঙ্গে জানান, ইদানীং তিনি রাজনীতি, দলের প্রচার থেকে একটু দূরেই। তার পরেও কেন তাঁর নামে এই ধরনের মিথ্যা খবর ছড়াল, জানেন না তিনি।
ইদানীং অভিনয়ে আগের তুলনায় যেন কম দেখা যাচ্ছে ঋত্বিকাকে। নিন্দকেরা বলছে, সেই জন্যই নাকি তিনি রাজনীতিতে আসছেন?
হাসতে হাসতে অভিনেত্রী জবাব দিয়েছেন, “এখন অভিনয় দুনিয়ায় অনেকেই কম কাজ করছেন। তাঁরাও কি রাজনীতিতে আসছেন? টলিউডে ছবির কাজের সংখ্যা যে কমে গিয়েছে, সকলেই কমবেশি জানেন। এখন সিরিজ়ের রমরমা। ওয়েব প্ল্যাটফর্মে ভাল সুযোগ পেলে অবশ্যই আছি। এখন বেছে অভিনয় করছি।” একটু থেমে যোগ করেছেন, “মায়ের হাত ধরে অনেক ছোট বয়স থেকে অভিনয়ে। এখনও যাঁরা আমায় পর্দায় কম দেখলে ভাবিত হন, আমার রাজনীতিতে আসা নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ান, তাঁদের ধন্যবাদ। এর থেকেই প্রমাণিত, ঋত্বিকা সেনকে কেউ ভুলে যাননি।”