২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে চারটি বিধি চালু হওয়ার কথা। —প্রতীকী চিত্র।
আগামী এপ্রিল থেকে সারা দেশে ধাপে ধাপে নতুন শ্রমবিধি কার্যকরের জন্য উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। যেখানে ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে চারটি বিধি চালু হওয়ার কথা। কেন্দ্র চাইছে, সমস্ত রাজ্য এ ব্যাপারে নিয়মাবলি তৈরি করুক। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিরোধী শাসিত কিছু রাজ্য এবং শ্রমিক সংগঠনগুলি বড় অংশ বিধির বিরোধিতা করে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। ইউনিয়নগুলির হুঁশিয়ারি, বিধি চালুর চেষ্টা হলে দেশজুড়ে আন্দোলন হবে। তারই অঙ্গ হিসেবে ২০ মে ধর্মঘট ডেকেছে সিটু, আইএনটিইউসি, এআইটিউসি, এইচএমএস, ইউটিইউসি, টিইউসিসি, এআইইউটিইউসি-সহ ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, প্রয়োজনে শিল্প ক্ষেত্র ভিত্তিক ধর্মঘটও হতে পারে। এত দিন ধরে অর্জিত অধিকার খর্ব হতে দেওয়া যায় না। ফলে সব মিলিয়ে শিল্প ক্ষেত্রে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সিটুর সাধারণ সম্পাদক তপন সেনের অভিযোগ, নতুন শ্রম বিধিতে ধর্মঘট-সহ বিভিন্ন আন্দোলনে শ্রমিকেরা গেলে তাঁরা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন বলে ধরে নেওয়া হবে। জেলেও যেতে হতে পারে। চলতি শ্রম আইনে থাকা মালিকদের বেশ কিছু ফৌজদারি অপরাধকে লঘু করে জরিমানা দিয়ে রেহাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে নতুন বিধিতে।
ইউটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক অশোক ঘোষ বলেন, ‘‘কার্যত বিরোধীশূন্য সংসদে আলোচনা ছাড়াই ২০১৯ সালে মজুরি বিধি পাশ করানো হয়। বাকি তিনটি বিধি পাশ করানো হয় অতিমারির সময়ে। যাতে কোনও আন্দোলন সংগঠিত করা না যায়।’’ আইএনটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি কামারুজ্জামান কামারের বক্তব্য, মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতীয় শ্রম সম্মেলন ডাকেনি। তপন এবং অশোকের দাবি, সব থেকে ‘বিপজ্জনক’ হল, ভবিষ্যতে কোনও বদল আনতে হলে আইনসভার অনুমোদন প্রয়োজন হবে না। সরকারি বিজ্ঞপ্তিই যথেষ্ট।