ইদের দিনেও গাজ়ায় ইজ়রায়লি হানা। ছবি: রয়টার্স।
ইদের দিনেও গাজ়ায় ধারাবাহিক হামলা চালাল ইজ়রায়েলি ফৌজ। সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী ও শিশু-সহ অন্তত ৬৪ জন প্যালেস্টাইনি নিহত হয়েছেন, আহতের সংখ্যা শতাধিক।
নিহতদের মধ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জের এক কর্মী রয়েছেন বলে স্বাধীন প্যালেস্টাইনপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজ়া স্বশাসিত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এ ছাড়া শরণার্থী শিবিরে কর্মরত অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’ জানিয়েছে। এরই মধ্যে ইজরায়েলি সেনার তরফে প্যালেস্টাইনি শরণার্থীদের রাফার শরণার্থী শিবিরগুলি দ্রুত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরের ৭ তারিখে হামাসের হামলার জবাব দিতে গিয়ে প্রথমে বন্দুকের নলের সামনে রেখে উত্তর গাজ়া ফাঁকা করিয়েছিল ইজ়রায়েলি বাহিনী। একে একে মধ্য ভূখণ্ডও গ্রাস করেছে তারা। ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, ধূলিসাৎ করেছে সব। তার পর টানা হামলা চলেছে দক্ষিণে, খান ইউনিসে। এর পর ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিশানা গাজ়া ভূখণ্ডের একেবারে দক্ষিণ প্রান্ত রাফা। গাজ়া ভূখণ্ডের দক্ষিণতম শহর রাফার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে কয়েক লক্ষ গৃহহীন প্যালেস্টাইনি শরণার্থী রয়েছেন। সেখানে ইজ়রায়েলি সেনা স্থল-অভিযান শুরু করলে বহু প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
নেতানিয়াহু সরকারের দাবি, এখনও ৫৯ জন ইজ়রায়েলিকে পণবন্দি করে রেখেছে হামাস। তাঁদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত কোনও অবস্থাতেই যুদ্ধবিরতি হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছে তেল আভিভ। প্রসঙ্গত, কাতারের মধ্যস্থতায় এবং আমেরিকা ও মিশরের প্রচেষ্টায় গত ১৫ জানুয়ারি রাতে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইজ়রায়েল সরকার এবং হামাস। ১৯ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু মার্চের গোড়ায় একতরফা ভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজ়ায় আবার হামলা শুরু করেছে ইজরায়েলি সেনা। ঘটনাচক্রে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি বিভিন্ন বক্তব্যে গাজ়ায় সেনা অভিযান সমর্থন করেছেন।