ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
‘বন্ধু’ ভ্লাদিমির পুতিনের উপর চটেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে রফতানি হওয়া তেলের উপরেই শুধু নয়, সেই তেল যে সমস্ত দেশ কেনে, তাদের উপরেও শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অন্য দিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কিকেও নিশানা করেছেন ট্রাম্প। তাঁকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, জ়েলেনস্কি আমেরিকার সঙ্গে খনিজ চুক্তি না করলে ‘বড় অসুবিধার’ সম্মুখীন হবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেন যতই চেষ্টা করুক, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোয় যে তাদের ঠাঁই হবে না, তা-ও আরও এক বার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প রাশিয়ার তেলের উপরে শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বিপাকে পড়তে পারে ভারত এবং চিন। কারণ রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়া ইস্তক আমেরিকার জো বাইডেন প্রশাসন এবং ইউরোপের অধিকাংশ দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ রেখেছে। এই পরিস্থিতিতেও পুতিনের দেশ থেকে ব্যারেল ব্যারেল অশোধিত তেল আমদানি করে গিয়েছে ভারত এবং চিন। এখন ট্রাম্প রাশিয়ার তেল আমদানির উপর শুল্ক বসালে তার মূল্য চোকাতে হবে নয়াদিল্লি আর বেজিংকে।
রবিবার একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে দাঁড়ি টানার বিষয়ে পুতিনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বলেন, “যদি (যুদ্ধবিরতি) চুক্তি কার্যকর না-হয়, যদি আমি মনে করি রাশিয়ার ভুলের জন্যই এটা হল, তা হলে আমি রাশিয়ার উপর দ্বিতীয় বারের জন্য বিধি-নিষেধ আরোপ করব।”
সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, পুতিনের সঙ্গে ফোন-কথোপকথনে আদৌ সন্তুষ্ট হননি ট্রাম্প। কারণ রুশ প্রেসিডেন্ট নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ইউক্রেনে জ়েলেনস্কির বদলে নতুন নেতাকে দেখতে চায় মস্কো। প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প পুতিনকে বলেন, “ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্ব আনার অর্থ, আপনি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চান না। আমি ঠিক বলছি তো?”
রাশিয়া থেকে কেনা তেলে কত শুল্ক চাপতে পারে, তা-ও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “এটা অনেকটা এমন হবে যে, আপনি যদি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনেন, তা হলে আপনি আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবেন না। সব ধরনের তেলের জন্য ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক লাগবে।”