(বাঁ দিকে) নিয়োগ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ। মামলার অপর অভিযুক্ত তাপস মণ্ডল (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ দাবি করেছিলেন, এজলাসের বাইরে ডেকে তাঁর কাছ থেকে ১৯ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। দুই ব্যক্তি তাপস মণ্ডলের নাম করে এই টাকা চেয়েছেন। সোমবার আদালত চত্বরেই এর জবাব দিলেন তাপস। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য ‘নাটক’ করছেন কুন্তল। আদৌ তাঁকে কেউ হুমকি দিয়েছেন বলে মনে হয় না।
নিয়োগ মামলার অপর অভিযুক্ত তাপস বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। সোমবার কলকাতার বিচার ভবনে উপস্থিত ছিলেন তিনি। কুন্তলের গত দিনের দাবি প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তাপস বলেন, ‘‘কুন্তলকে কেউ হুমকি দিয়েছেন বলে আমার তো বিশ্বাস হয় না। আসলে নিরাপত্তারক্ষী পাওয়ার জন্য ও এই নাটক করছে। আমাকে ভয় পায় বলেই আমার নাম জড়াচ্ছে এর সঙ্গে।’’ কুন্তলের পূর্বের জীবনযাপনকেও কটাক্ষ করেছেন তাপস। বলেছেন, ‘‘কুন্তল আগে নীলবাতির গাড়ি আর বাউন্সার নিয়ে ঘুরত। এখন সে সব কিছুই পাচ্ছে না। তাই এই সমস্ত মিথ্যা কথা বলছে।’’
কী বলেছিলেন কুন্তল?
গত ২০ মার্চ, বৃহস্পতিবার কলকাতায় ইডির বিশেষ আদালতে প্রাথমিক মামলার শুনানি চলছিল। শুনানির প্রায় শেষের দিকে একটি পর্যায়ে কুন্তল বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জানান, দু’জন ব্যক্তি তাঁকে এজলাসের বাইরে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর কাছ থেকে ১৯ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। কুন্তলের কথায়, ‘‘দু’জন লোক আমাকে বাইরে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলে তাপস মণ্ডলের টাকা দে।’’ প্রয়োজনে আদালতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার আবেদনও জানান কুন্তল। এই অভিযোগ শোনার পরে তাঁকে এজলাসের বাইরে না-যাওয়ার পরামর্শ দেন বিচারক। বলেন, “আপনি ভিতরেই বসুন। পরের দিনও ভিতরেই থাকবেন।” পরে আদালতের কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক (কোর্ট ইনস্পেক্টর)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জানান কুন্তল। হেয়ার স্ট্রিট থানাতেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি।
কুন্তলের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই সোমবার তাপস জানালেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর বিশ্বাস হয় না। তাঁর নাম করে টাকা চাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তাপস।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসাবে পরিচিত তাপসকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ২০২৩ সালে। মানিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার পর তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসে। সিবিআই সূত্রে খবর, তাপস প্রথম থেকেই তদন্তকারীদের নানা তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয় কুন্তলকে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে নিয়োগ মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন পান তাপস। পরে এই মামলায় কুন্তলকেও জামিন দেওয়া হয়েছে।