রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার সময় অধিকাংশ বাম নেতাদের পদ, চেয়ার আঁকড়ে থাকার প্রবণতা ‘২০১১ ধাক্কায়’ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করলেন আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদক ক্ষিতি গোস্বামী। সোমবার শিলিগুড়িতে দলের দার্জিলিং জেলা কমিটির দ্বাদশ সম্মেলনে যোগ দিতে যান ক্ষিতিবাবু। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে ওই বৈঠকের পর নতুন জেলা কমিটিও তৈরি করেন ক্ষিতিবাবুরা। তাতে অর্ধেকের বেশি সদস্য ‘নতুন নবীন মুখ’ বলে দাবিও করেছেন আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদক। ক্ষিতিবাবু বলেন, “রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার সময় অনেকেই পদ, চেয়ার আঁকড়ে থেকেছেন। চার বছর আগে পরিবর্তনের ধাক্কায় নতুন সরকার আসার পর তা অবশ্য বদলানো শুরু করেছে। অনেকেই পদ ছাড়ছেন, নতুনেরা নেতৃত্বে আসছেন। আরও আগে হলে হয়ত আরও ভাল হতো।” এর পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘তাই যোগ্য উত্তরসূরির হাতে ছেড়ে দিতে আমিও প্রস্তুত।’’
সম্প্রতি বামফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরে গিয়েছেন বিমান বসু। সেখানে নতুন রাজ্য সম্পাদক পদে এসেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। যদিও বিমানবাবু রাজ্য বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান পদে থেকে গিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের পুরভোট নিয়ে যথেষ্টই আশাবাদী এই বাম শরিকের রাজ্য সম্পাদক। বিশেষ করে শিলিগুড়ি পুরসভা নিয়ে। ক্ষিতিবাবু বলেন, ‘‘আশা করছি, বামফ্রন্ট শিলিগুড়িতে যথেষ্টই ভাল ফল করবে।’’
তিন বছর পর দলের জেলা সম্মেলন হলেও নতুন জেলা সম্পাদক অবশ্য নির্বাচন করতে পারেনি দল। দলীয় সূত্রের খবর, আরএসপি-র শহরের দুটি ওয়ার্ডে ছাড়াও মহকুমা গ্রামীণ এলাকায় কিছু সংগঠন রয়েছে। বিকেল ৫টা অবধি সম্মেলন শেষে নতুন জেলা কমিটি গড়া হলেও ভোটের জন্য কমিটির অনেক নতুন সদস্যই এলাকায় ফিরে যান। আবার ঝড় বৃষ্টি নামার উপক্রম হতেই গ্রামের লোকজনও ফিরতে বাধ্য হয়। তাই আপাতত ঠিক হয়েছে, পুরভোট অবধি দলের জেলা সম্পদক পদে বিনয় চক্রবর্তীই থাকছেন। আর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসাবে তাপস গোস্বামীই কাজ চালিয়ে যাবেন। ভোটের পর জেলা কমিটি বসে নতুন জেলা সম্পাদক ঠিক করবে।