গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।
কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন বন্ধু। বাড়ি এসেছিলেন। রবিবার সকাল হলে আবার কর্মস্থলে চলে যাবেন। তাই তাঁর জন্মদিন পালন করার জন্য চার বন্ধু হাজির হয়েছিলেন বাড়ির সামনে। রাত ১২টা বাজলেই বন্ধুকে ‘সারপ্রাইজ়’ দেবেন। রাস্তার ধারে কেক-মোমবাতি সাজিয়ে ‘সেলিব্রেশন মুডে’ সবাই। তখনই দুর্ঘটনা। পিছন থেকে আসা একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কায় মারে চার যুবককে। এ দিক-ও দিক ছিটকে পড়ে মোমবাতি, কেক। গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। গুরুতর আহত অবস্থায় এক জনকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে। অন্য জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কলকাতার সরকারি হাসপাতালে। এমন ঘটনায় শোকস্তব্ধ পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা থানার আমশোল এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাত ১২টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি হয় চন্দ্রকোনা-রসকুন্ডু রাজ্যসড়কে। রাতেই ঘটনাস্থলে যায় গড়বেতা থানার পুলিশ। তারা জানিয়েছে, মৃত দুই বন্ধুর নাম শুভ দাস এবং বিক্রম মণ্ডল। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন সৌরভ দাস। তিনি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। মিন্টু সরকার নামে আর এক বন্ধু এখন এসএসকেএমে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আমশোল গ্রামে বাড়ি পাঁচ বন্ধুর। এঁদের মধ্যে দেবাশিস মুর্শিদ নামের এক জনের জন্মদিন রবিবার। কর্মসূত্রে তিনি বাইরে থাকেন। কিছু দিন আগে বাড়ি এসেছিলেন। রবিবারই সকালেই তাঁর কর্মস্থলে চলে যাওয়ার কথা। তাই রাত্রি ১২টার কিছু আগে দেবাশিসের বাড়ির সামনে রাজ্যসড়কের ধারে কেক, মোমবাতি সাজিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন চার বন্ধু। গ্রামের এক জনকে দিয়ে ‘বার্থ ডে বয়’ দেবাশিসকে ডাকতে পাঠিয়ে তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন। তখনই এই অঘটন।
রবিবার সকালে পুলিশ গিয়ে দু’টি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে ঘাটাল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।