মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল ছবি।
পুজো উদ্বোধনের মঞ্চ থেকেই এ বার চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়। সেই মেঘ কাটিয়ে এগোতেও হয়।’’ সেই সঙ্গেই উৎসবের পক্ষে তাঁর বার্তা, ‘‘জীবন থেমে থাকে না। উৎসব জীবনেরই অঙ্গ। আমাকে গাল দিন, আমার ফোস্কা পড়বে না!’’
পুজো উদ্বোধনের তৃতীয় দিনে আর জি কর হাসপাতালের ঘটনা নিয়ে ফের নিজের অবস্থান সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ কলকাতায় শুক্রবার হিন্দুস্থান পার্ক সর্বজনীনের পুজো উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘একাংশের মানুষ বাংলাকে অসম্মান করে। যারা অনবরত কুৎসা করে চলে, তাদের এটাও জেনে রাখা উচিত, বাংলা ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। দীর্ঘ দিন লড়াইয়ের পরে আমরা এই স্বীকৃতি পেয়েছি। বাংলার মহিলা উদ্যোগপতিরা দেশে সর্বাগ্রে।’’ এখানেই সরাসরি আর জি কর হাসপাতালের উল্লেখ না-করে তিনি বলেন, ‘‘দুর্ঘটনা অনেক সময় ঘটে যায়। আমরা কেউ চাই না। কিন্তু তা নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা আমি সমর্থন করি না।’’ বাদামতলা আষাঢ় সঙ্ঘের মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুজোকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য হয়। কর্মসংস্থান তৈরি হয়। আর্থিক গতি তৈরি হয়।’’ তাঁর কথায়, ‘‘ঝড়, জল তুফান, টর্নেডো আসবে। তা বলে কী মা’কে ভোলা যায়? মা’কে কী আটকানো যায়! মা আসবেন।’’
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী অবশ্য বলেছেন, ‘‘আর জি করে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন দুর্ঘটনা নয়, সংগঠিত অপরাধ। সেটা যেমন দুর্ভাগ্যজনক, তার তথ্য-প্রমাণ লোপাট আরও বেশি দুর্ভাগ্যজনক! মুখ্যমন্ত্রীই পুলিশমন্ত্রী, তিনিই স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দায় তো তাঁকেই নিতে হবে।’’
দক্ষিণ কলকাতার একাধিক পুজোর সঙ্গে এ দিন জেলারও প্রায় ৪০০ পুজোর উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় সব অনুষ্ঠানেই উৎসবের পাশাপাশি রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকারের তরফে ত্রাণের ব্যবস্থা হয়েছে। যাঁদের বাড়ি ভেঙেছে, তাঁদের সাহায্য দেওয়া হবে। যে কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাঁদের সকলের বিমার টাকা দেওয়া হবে।’’ একডালিয়া এভারগ্রিনের পুজোর উদ্বোধন করে প্রয়াত নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি।