ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। —ফাইল চিত্র।
তিনি কিছু দিন ধরেই ‘বিদ্রোহী’। এ বারে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে আসার দিনই জেলায় নির্দলদের সমর্থনে পাল্টা সভার ডাক দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। একই সঙ্গে এ দিন তিনি দলকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘‘জেলায় বিধায়ক সংখ্যা ২০ থেকে দুইয়ে নামিয়ে দেব।’’ যা শুনে তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শাওনি সিংহ রায়ের বক্তব্য, ‘‘তাঁর বিষয়ে যা বলার, রাজ্য নেতৃত্ব বলবে। আমি কিছু বলব না।’’
অভিষেকের আজ, মঙ্গলবার ডোমকলে রোড-শো করার কথা। সেই দিনই হুমায়ুন সভা করতে চান বহরমপুরের টেক্সটাইল মোড়ে। তবে তাঁর ওই সভার অনুমতি পুলিশ দেয়নি। বহরমপুর সদরের মহকুমাশাসক প্রভাতকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মঙ্গলবার ডোমকলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচির কারণে বহরমপুরে পুলিশ দিতে পারবে না। তাই হুমায়ুন কবীরের সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি।’’
হুমায়ুন বলছেন, ‘‘অনুমতি না পেলেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে সভা করব।’’ রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এ দিন জেলায় ছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘‘হুমায়ুন ভাইকে বলব, দলের বিধায়ক আপনারা, দলের বিড়ম্বনা হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। আলোচনা করলে দলের মধ্যে করতে হবে, প্রতিবাদ করলে দলের সভায় করতে হবে।’’
হুমায়ুন অবশ্য অভিষেকের কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি ডাক পাইনি।’’ সম্প্রতি জেলার চার বিধায়ক হুমায়ুন, রবিউল আলম চৌধুরী, সাহিনা মমতাজ খান এবং আব্দুর রাজ্জাক ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের প্রার্থী বাছাই নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের মধ্যে রবিউল, সাহিনা এবং আব্দুর রাজ্জাক ডাক পেয়েছেন অভিষেকের কর্মসূচিতে। রবিউল, রাজ্জাক যাবেন বললেও ‘অসুস্থ’ বলে যাচ্ছেন না সাহিনা।
আজ নদিয়ায় ‘বিজেপির দুর্গ’ বলে পরিচিত হয়ে ওঠা কৃষ্ণগঞ্জেও প্রচারসভা করতে আসছেন অভিষেক। বাদকুল্লায় জনসভা করার কথা তাঁর। গত লোকসভা ভোটে রানাঘাট কেন্দ্রের পাশাপাশি কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে উপ-নির্বাচনও জিতেছিল বিজেপি। গত বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণগঞ্জ-সহ দক্ষিণ নদিয়ার সব কেন্দ্রে হারে তৃণমূল, যদিও পরে উপ-নির্বাচনে তারা শান্তিপুর পুনরুদ্ধার করেছে। দক্ষিণে এই মতুয়া প্রধান এলাকায় অভিষেকের সভায় মাঠ ভরানোই তাই তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।