মুখ্যসচিব রাজীব সিংহ।—ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গে করোনার দাপট ঠেকানোর লড়াইয়ে কলকাতাই এখন চ্যালেঞ্জ!
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন ৫৮ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এক দিনে সংক্রমিতের নিরিখে যা এ-পর্যন্ত সর্বাধিক। বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব রাজীব সিংহ জানান, নতুন আক্রান্তদের ৮০ শতাংশই কলকাতার বাসিন্দা। ২২ জন সংক্রমিত হয়েছেন পারিবারিক সূত্রে। হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনায় নতুন সংক্রমণের হার সামান্য হলেও কমেছে। কলকাতার কোথায় এবং কেন বাড়ছে সংক্রমণ?
মুখ্যসচিব বলেন, ‘‘মূলত ঘনবসতি ও ঘিঞ্জি এলাকায় সংক্রমণ বেশি। প্রশাসন বার বার ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে থাকতে বলছে, ঘরে ঢুকিয়েও দিচ্ছে। কিন্তু ঘরের মধ্যেও যে-শারীরিক দূরত্ব থাকা দরকার, ওই সব এলাকায় তা বজায় রাখা সম্ভব নয়। এটা আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।’’ লকডাউনে কলকাতায় সংক্রমণ বাড়ছে কেন? মুখ্যসচিবের ব্যাখ্যা, ‘‘কলকাতায় লকডাউনেও জরুরি পরিষেবা খোলা রাখতে হয়েছিল। বাজার খোলা ছিল। ফলে মেলামেশা বেশি হয়েছে। মনে হচ্ছে, সেটাও নতুন সংক্রমণের কারণ।’’ তিনি জানান, এমন নয় যে, নির্দিষ্ট এলাকা থেকেই সংক্রমণের খবর আসছে। তাই বাড়তি মেলামেশা, যাতায়াতের ফলে কোথায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে, তা বলা মুশকিল।
কলকাতার সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী হারের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমিত হওয়ার ধারা অব্যাহত। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের আক্রান্ত এক ইন্টার্ন এবং পাঁচ জন সাফাইকর্মীকে এ দিন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সংক্রমণ ধরা পড়ায় মানিকতলা ইএসআই হাসপাতালের এক ডাক্তার ভর্তি হয়েছেন আইডিতে। শিয়ালদহ সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরের সংক্রমিত স্বাস্থ্যকর্তার স্ত্রীরও করোনা ধরা পড়েছে। আরজি কর সূত্রের খবর, ট্রমা বিল্ডিংয়ে সিটি স্ক্যানের এক কর্মীর করোনা হয়েছে। তিনি আছেন এমআর বাঙুর হাসপাতালে। আইডিতে সিসিইউয়ের যে-রোগীর সংক্রমণ ধরা পড়েছিল, তাঁর সংস্পর্শে আসায় চার ইন্টার্ন, তিন নার্স এবং এক সাফাইকর্মীকে নিভৃতবাসে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় ৫০ জনের নাম ছিল। তাঁদের বক্তব্য যাচাই করে নিভৃতবাসে পাঠানো হয় আট জনকে।
আরও পড়ুন: করোনা নিয়ে রটনার জেরে একঘরে স্বাস্থ্যকর্মী
চিকিৎসক-নার্সদের সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে মুখ্যসচিব বলেন, ‘‘চিকিৎসকেরা সুস্থ না-থাকলে কোভিড রোগীদের সুস্থ করা মুশকিল। কোনও হাসপাতালে এক চিকিৎসক সংক্রমিত হলে সেই প্রতিষ্ঠানের অংশবিশেষ বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। সেই জন্য চিকিৎসক-নার্সদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার।’’
রাজ্য প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে আট আরপিএফ কনস্টেবলের সংক্রমণ। সম্প্রতি বালেশ্বরের এক আরপিএফ কনস্টেবলের করোনা ধরা পড়ে। খড়্গপুর-মেচেদা-উলুবেড়িয়ায় কর্মরত আট সংক্রমিত কনস্টেবল সম্প্রতি দিল্লি থেকে ফিরেছেন। তাঁদের সফরসঙ্গী ছিলেন বালেশ্বরের কনস্টেবল। ঘাটালে ‘নিশ্চয় যান’-এর এক চালকের সংক্রমণও স্বাস্থ্য দফতরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: কড়া চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর, পত্র-যুদ্ধে রাজ্যপালও
মুখ্যসচিব বলেন, ‘‘পরীক্ষা হচ্ছে ১২টি পরীক্ষাগারে। প্রথমে গড়ে ২০০ নমুনা পরীক্ষা হচ্ছিল। সেটা এখন ৮০০-৯০০-য় পৌঁছেছে। কেন্দ্র পর্যাপ্ত কিট দিলে পরীক্ষার হার আরও বাড়ানো হবে।’’ নাইসেডের গত ১০ দিনের পরিসংখ্যানেও নমুনা পরীক্ষার বর্ধিত হার প্রতিফলিত হয়েছে। ১৩-১৭ এপ্রিল কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে নতুন নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২২৩টি। ২৩ জনের দেহে করোনা ধরা পড়ে। ১৮-২২ এপ্রিল ১০১৭টি নয়া নমুনার মধ্যে করোনা পজ়িটিভ মোট ৯৭ জন।
মুখ্যসচিব জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশের কোনও উপসর্গ নেই। যাঁরা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশের বয়স ৪০ থেকে ৬০ বা তার বেশি। কিছু শিশুর দেহেও করোনা মিলেছে।
(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)