‘লভ অল’। অথবা শূন্য থেকে শুরু। এ ভাবেও ব্যাখ্যা করা যায়। টেনিস কোর্টে বাজিমাত করেছেন। লাখো লাখো অনুরাগীর হৃদয়ে ঝড় তুলেছেন। সেই মারিয়া শারাপোভার জীবনে এ বার শুরু হল নতুন এক ইনিংস। মা হলেন এই টেনিস-সুন্দরী।
ফুটফুটে পুত্রসন্তানের ছবি নেটমাধ্যমে পোস্ট করে এই সুখবর নিজেই জানিয়েছেন শারাপোভা।
প্রেমিক আলেকজান্ডার গিলকেস ও নবজাতকের ছবি পোস্ট করে শারাপোভা লিখেছেন, ‘আমাদের ছোট্ট পরিবারে সবচেয়ে সুন্দর, কঠিন এবং অমূল্য উপহার পেলাম আজ।’
গত এপ্রিলেই শারাপোভার অন্ত:সত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল।
অবসরের পর পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটানোর কথা জানিয়েছিলেন শারাপোভা। মা হওয়ার পর তাঁর পারিবারিক জীবনের বৃত্তটা যেন সম্পূর্ণ হল।
টেনিস কোর্টের বাইরে শারাপোভার ‘রঙিন’ জীবন বরাবরই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা যে কোনও খ্যাতনামীর ঈর্ষার কারণ হতে পারে।
বহু হৃদয়ে ঝড় তোলা এই টেনিস সুন্দরীর জীবনে এসেছেন একাধিক পুরুষ। ২০০৫ সালে গায়ক অ্যাডাম লেভাইনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।
শোনা যায়, এক জন্মদিনের পার্টিতে লেভাইনের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল শারাপোভার। কিন্তু সেই প্রেম বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।
টেলিভিশন প্রোডিউসর চার্লি এবেরসোলের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ান শারাপোভা। কিন্তু সেই সম্পর্কও ছিল স্বল্পস্থায়ী।
এর পর স্লোভেনিয়ান বাস্কেটবল খেলোয়াড় সাশা ভুজাকিকের সঙ্গে শারাপোভার প্রণয় ঘিরে চর্চা শুরু হয়।
ভুজাকিকের সঙ্গে শারাপোভার বাগদানও সম্পন্ন হয়। ২০১২ সালে আবারও বিচ্ছেদের খবর দেন তিনি।
টেনিস খেলোয়াড় গ্রিগর দিমিত্রভের সঙ্গে তাঁর প্রেমকাহিনির কথা ২০১৩ সালে জানিয়েছিলেন শারাপোভা। কিন্তু দু’বছর যেতে না যেতেই সেই সম্পর্কে ইতি টানেন।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ন্যাগান প্রদেশে মারিয়া শারাপোভার জন্ম ১৯৮৭ সালের ১৯ এপ্রিল।
সোচিতেই জীবনে প্রথম র্যাকেট ধরেছিলেন মারিয়া। দিয়েছিলেন তাঁর বাবার বন্ধু আলেকজান্ডার কাফেলনিকভ।
মস্কোয় এক টেনিস প্রশিক্ষণ শিবিরে মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার চোখে পড়েন মারিয়া। তাঁর বাবাকে মার্টিনা পরামর্শ দেন মেয়েকে নিয়ে আমেরিকায় যেতে। ফ্লোরিডায় আইএমজি অ্যাকাডেমিতে মারিয়াকে পেশাদার প্রশিক্ষণ নিতে বলেন তিনি।।
আমেরিকায় পৌঁছনোর পর মারিয়ার বাবা সামান্য মজুরিতে বিভিন্ন রকমের কাজ করতে শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে মারিয়ার বার্ষিক ফি মকুব করে আইএমজি।
এর পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। খেলার পাশাপাশি বেড়েছে তাঁর ‘গ্ল্যামার কোশেন্ট’। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিতর্কও। একাধিক সঙ্গী বদলানো ছিল যার অন্যতম।
টেনিস-সুন্দরীর সাফল্য যেমন চোখ ধাঁধিয়েছে, তেমনই তাঁকে ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। ডোপিং করার দায়ে নির্বাসিত হতে হয়েছিল শারাপোভাকে।
খেলার বাইরে নিজের একটি সংস্থাও খোলেন মাশা। নাম দেন ‘সুগারপোভা।’
প্রেমিক আলেকজান্ডার গিলকেসের সঙ্গে আপাতত থিতু টেনিস-সুন্দরী। বৃত্ত সম্পূর্ণ হল সন্তানের জন্মের পর।