মেঝেয় পড়ে রয়েছে এঁটো প্লেট। দেওয়াল ফাটা। কোথাও আবার গর্ত। চারদিকে দুর্গন্ধ। বিছানায় বেডশিটে লেগে রয়েছে রক্তের দাগ। হোটেলের ঘরের দরজা খুলে এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে হাত-পা কাঁপছিল এক মহিলার। এটা হোটেল না কোনও ভূতুড়ে আস্তানা! মনে মনে এই প্রশ্নই করছিলেন তিনি।
শুধু ওই মহিলাই নন। ওই হোটেলে ঘর নিয়ে যিনিই থাকতে গিয়েছেন, তাঁরই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছে। হোটেলের ঘরের দরজা খোলার পর অনেকেই আতঙ্কে সিঁটিয়েছেন। হোটেলের ঘরময় যেন আবর্জনার স্তূপ।
হোটেলের ঘরে আলমারি পড়ে গিয়ে এক অতিথির মৃত্যুও হয়েছে। আবার ওই হোটেলে অন্য এক পর্যটক এক সময় জখম হয়েছিলেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, হোটেলের ঘরে ঢোকার পরই অন্য রকম কিছু অনুভব করেছেন তাঁরা।
অথচ ওই হোটেলটির সঙ্গে ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। বিখ্যাত জাহাজ টাইটানিক সমুদ্রে ভাসার আগে যাত্রীদের ওই হোটেলেই রাখা হয়েছিল। সেই হোটেলেই কি না এমন অব্যবস্থা!
ব্রিটেনের লিভারপুলের ওই হোটেলটি ব্রিটানিয়া সংস্থার। বর্তমানে ওই হোটেলটিকে সে দেশের সবচেয়ে খারাপ হোটেলের তকমা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হোটেলকে নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। হোটেল কতটা পরিচ্ছন্ন, আরামদায়ক, খরচ কেমন— এ সব নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। সেখানেই ওই হোটেলের অব্যবস্থার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে।
‘দ্য অ্যাডেলফি’ হোটেলের এক অতিথি জানিয়েছেন, ঘরগুলো একেবারে নোংরা। দুর্গন্ধ চারদিকে। ওই হোটেলে থাকবেন বলে ঘর নিয়েছিলেন রেবেকা হিল নামে এক মহিলা। হোটেলের ঘরে ঢুকে রীতিমতো আঁতকে উঠেছিলেন তিনি।
ওই মহিলার কথায়, ‘‘হোটেলের ঘরের দরজা খোলামাত্রই কেমন একটা লেগেছিল। দরজা খুলে দেখলাম মেঝেয় বাক্স পড়ে রয়েছে। ঘরের কোণায় খড় রাখা। খরগোশের বিষ্ঠা পড়েছিল। খালি বোতলও দেখতে পেয়েছি।’’
তবে যা দেখে রীতিমতো ভয় পেয়েছিলেন, তা হল বিছানার বেডশিটে রক্তের দাগ। এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন ওই মহিলা।
এক বন্ধুর সঙ্গে হোটেলের ঘরে পার্টি করার পরিকল্পনা ছিল এক যুবকের। কিন্তু রাতে হোটেলের ঘরে ঢুকে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অপরিচ্ছন্ন ঘর দেখে হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ওই যুবক।
তাঁর কথায়, ‘‘হোটেলের ঘরগুলি পরিষ্কার করা হয়নি। এমনকি, হোটেলের কর্মীদেরও দেখতে পাইনি। শুধু মাত্র রিসেপশনে এক জনকে দেখেছিলাম।’’
একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ইল উইলসন নামে ২৭ বছরের এক তরুণী। গত জুলাই মাসে ওই হোটেলে ঘর নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হোটেলের ঘরে পৌঁছে আঁতকে উঠেন তিনি। অব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগও জানিয়েছিলেন ওই তরুণী। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।
হোটেলের অন্য এক অতিথি আবার জানিয়েছেন, তাঁর ঘরে ঢোকার আগেই দেখেন দরজা খোলা রয়েছে। ঘরের মধ্যে আবর্জনার স্তূপ দেখতে পান তিনি।
হোটেলের ঘরে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলছে। আলমারি পড়ে গিয়ে কী ভাবে মৃত্যু হল ওই যুবকের, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। আবার অন্য একটি ঘটনায় এক যুবকের চোট পাওয়ার ঘটনাও রহস্য বাড়িয়েছে।
কিন্তু কেন এমন অব্যবস্থা? কেনই বা হোটেল পরিচ্ছন্ন রাখা হয় না। এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি ব্রিটানিয়া হোটেল সংস্থা। আগামী দিনে যাতে ওই হোটেলে কেউ না ওঠেন, সেই পরামর্শই দেওয়া হয়েছে।