মাংস খেলেই হচ্ছে অ্যালার্জি, বিরল রোগ ধরা পড়ল নানা দেশে। ছবি: ফ্রিপিক।
রেড মিট খেলেই হতে পারে অ্যালার্জি? আর যে সে অ্যালার্জি নয়, বিরল রোগ ‘আলফা-গ্যাল সিনড্রোম’। এমন এক অসুখ, যাতে প্রাণহানির ঝুঁকিও বেশি। পাঁঠার মাংস কেবল নয়, বিফ, পর্ক, ভেড়া বা খরগোশের মাংস থেকে এই ধরনের রোগ ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আমেরিকার ‘সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি)। আমেরিকার নানা জায়গায় এই সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। বয়স্ক মহিলা ও পুরুষেরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন এতে। দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়াতেও এমন ঘটনা ঘটেছে।
কী থেকে ঘটছে সংক্রমণ?
কাঁচা মাংসে এক রকম ‘টিক’ বা পোকা জন্মাচ্ছে, যার থেকেই এই বিরল রোগ ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। এর নাম ‘এক্সোডেস স্ক্যাপুলারিস’। বন্যপ্রাণীর শরীরে এই ধরনের পোকা জন্মায়। পশুর শরীরে পরজীবী হিসেবে বাসা বাঁধে। খুব তাড়াতাড়ি বংশবিস্তার করে এরা। আর পশুর থেকে মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গবেষকেরা দেখেছেন, কাঁচা মাংস থেকেই এই পোকা ছড়াচ্ছে। ঠিকমতো রান্না না করলে বা উচ্চ তাপমাত্রায় মাংস সেদ্ধ না করে খেলে, এই পোকার কারণেই আলফা-গ্যাল অ্যালার্জি হচ্ছে। যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই দোকান থেকে কেনা হট-ডগ, বার্গার বা হ্যামবার্গার খেয়েছিলেন। তা ছাড়া প্রক্রিয়াজাত মাংস থেকেও অ্যালার্জি হতে দেখা গিয়েছে।
‘আলফা-গ্যাল সিনড্রোম’-এ শরীরে ‘গ্যালাকটোজ় আলফা-১, ৩-গ্যালাকটোজ়’ নামে এক রকম ‘অ্যালার্জেন’ তৈরি হয়, যা এই অ্যালার্জির কারণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, মাংস খাওয়ার ৩-৮ ঘণ্টার মধ্যেই অসুস্থ হয়েছেন অনেকে। সারা গায়ে চুলকানি, ঠোঁট ও চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, শরীরের গ্রন্থিগুলি ফুলে লাল হয়ে ওঠা, শ্বাসকষ্ট, পেটে ব্যথার লক্ষণ দেখা দিয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি, খাদ্যনালিতে সংক্রমণও ধরা পড়েছে।
আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, যেমন ‘অ্যানাফাইল্যাক্সিস’-এ আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এটি এমন এক ধরনের অ্যালার্জি, যাতে রক্তচাপ হঠাৎ করে কমে যেতে পারে। বমি থামবেই না। ওষুধ খেলেও ডায়েরিয়া সারবে না। সে ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠবে।
‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অ্যালার্জি, অ্যাজ়মা অ্যান্ড ইমিউনোলজি’ থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রেও দাবি করা হয়েছে, ‘আলফা-গ্যাল অ্যালার্জি’ টিক থেকেই ছড়াচ্ছে। একে ‘রেড মিট অ্যালার্জি’ও বলা হচ্ছে। তবে শুধু মাংস নয়, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার থেকেও এই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হতে দেখা গিয়েছে অনেককে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, রোগের লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। আইজিই অ্যান্টিবডি টেস্টে ধরা পড়বে সংক্রমণ। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে প্রাণহানির ঝুঁকি কমবে।