যোগী আদিত্যনাথ।—ছবি পিটিআই।
উত্তরপ্রদেশে আজ বিজেপির রেকর্ড ভাঙলেন যোগী আদিত্যনাথ। এ রাজ্যে তিনিই বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, টানা তিন বছর যিনি ক্ষমতায় রয়েছেন।
বিজেপির জন্মের এক দশক পর দল বিপুল জয় পেয়েছিল গোবলয়ের সব থেকে বড় এই রাজ্যে। দু’শোর বেশি আসন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন কল্যাণ সিংহ। কিন্তু দেড় বছরের বেশি টেকেনি সরকার। ছ’বছর পরে ১৯৯৭-এ ফের মুখ্যমন্ত্রী হন কল্যাণ। সে যাত্রায় মেয়াদ একটু বাড়িয়ে কুর্সিতে ছিলেন দু’বছরের একটু বেশি। এর পর বিজেপিরই রামপ্রকাশ গুপ্ত এক বছরও ক্ষমতায় থাকেননি। আর রাজনাথ সিংহ পেরোননি দেড় বছরও।
রেকর্ডের ঢাক পিটিয়ে নিজেই টুইট করেন যোগী। লেখেন, ‘‘প্রিয় রাজ্যবাসী। সরকারের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আপনাদের শুভেচ্ছা। জয় হিন্দ, জয় উত্তরপ্রদেশ।’’ নিজের সরকারের রিপোর্ট কার্ডও পেশ করেছেন এ দিন। যদিও দিল্লি থেকে দলের বড় কোনও নেতা রেকর্ড ভাঙার জন্য শুভেচ্ছা জানাতে বা ওই রিপোর্ট কার্ডের প্রশংসায় মুখ খেলেননি।
রিপোর্ট কার্ডে যোগীর দাবি, আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি হোক বা পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ— তিন বছরে আমূল বদলেছে রাজ্যের হাল। যদিও সরকারি হিসেবই বলছে, ছবিটা মোটেই তা নয়। যে বিনিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, তা আসলে বাস্তবায়িত হয়নি। বেড়েছে বেকারত্ব। আইন-শৃঙ্খলার হালও শুধরেছে, এমন নয়। তার উপর রয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য।
উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বে থাকা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা আজও বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার নিজেদের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছে। মিথ্যায় ভরা এই রিপোর্টে সব বড় বড় দাবি করা হয়েছে। মহিলাদের উপরে এখনও অত্যাচার হচ্ছে। উন্নাওয়ের পর লখিমপুরেও নারী নিগ্রহের ঘটনা সরকারের দাবির মুখোশ খুলে দিয়েছে।’’
দু’বছর পরে অগ্নিপরীক্ষা যোগী সরকারের। যার উপরে জাতীয় স্তরেও বিজেপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করছে। তাঁর রাজ্যেই অযোধ্যায় তৈরি হচ্ছে রামমন্দির। যাকে সামনে রেখে হিন্দু আবেগকে জাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানাচ্ছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নতুন স্থানে যাবে রামলালা। এপ্রিলেই শুরু হতে পারে মন্দির নির্মাণের কাজ।