প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।
চব্বিশের লোকসভা ভোট কড়া নাড়ছে। তার আগে বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই আবহে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়াকে মেলায় পরিণত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই রোজগার মেলার ভিডিয়ো বক্তৃতামঞ্চ থেকে আজ তিনি আক্রমণ শানালেন কংগ্রেসের দিকে। মোদীর অভিযোগ, দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকার।
অনেকেই অবশ্য বলছেন, ব্যাঙ্ক থেকে টাকা লুট করে বিজেপি আমলেই দেশ ছেডেছেন বিজয় মাল্য, নীরব মোদীরা। ব্যাঙ্কের হাজার হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিরোধীদের অভিযোগ, মোদীকে এ ব্যাপারে কখনও মুখ খুলতে দেখা যায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী আজ বলেছেন, “আমাদের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র আগের সরকারের আমলে বিরাট ধাক্কা খেয়েছে। আজ আমরা ডিজিটাল লেনদেন করতে পারি। কিন্তু ন’বছর আগে একশো চল্লিশ কোটি মানুষ ফোন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।” এর সঙ্গেই তাঁর সংযোজন, “বড় বড় পরিবারের ঘনিষ্ঠরা অবশ্য আগের সরকারের আমলে স্রেফ ফোন করেই কোটি কোটি টাকা ঋণ পেয়ে যেতেন।”
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, মনমোহন সিংহের সরকারের আমলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি বিরাট লোকসানের জন্য পরিচিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁর সরকারের আমলে তারাই এখন বিরাট লাভের মুখ দেখছে। মোদীর কথায়, ”ভারতের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র আজ গোটা বিশ্বে সমাদৃত। এখন সব বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, ভারত কয়েক বছরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে। জনগণ ভারতকে উন্নত দেশ গড়ার প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছে।”
এদিনের রোজগার মেলা থেকে প্রধানমন্ত্রী ৭০ হাজারের বেশি যুবক-যুবতীর হাতে ভিডিয়ো মাধ্যমে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। মোট ৪৪ জায়গায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কেন্দ্রের দাবি, রোজগার মেলার মাধ্যমে ২০২৪ সালের মধ্যে ১০ লক্ষ সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করা হবে। রোজগার মেলার অনুষ্ঠান নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে পাল্টা বলেছেন, “কেন্দ্রীয় সরকারে ৩০ লক্ষ শূন্যপদ পড়ে রয়েছে। এতদিন পরে তার কিছু পদ পূরণ করা হচ্ছে। ‘ইভেন্ট-জীবী’ সরকারের প্রধান নরেন্দ্র মোদী সেই সব নিয়োগপত্র রোজগার মেলা করে বিলি করছেন। আর এমন ভাব করছেন যেন তিনি বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন।” খড়্গের অভিযোগ, মোদী সরকারের ভুল নীতির ধাক্কায় গত তিন বছরেদেশে ২০ হাজার ছোট-মাঝারি শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী কাজ হারিয়েছেন। দলিত, আদিবাসী, ওবিসি, আর্থিক অনগ্রসর শ্রেণি সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছে। সে সবে নজর না দিয়েমোদী শুধু নানারকম অনুষ্ঠান আয়োজন করে চলেছেন।