এই ধরনের খবরের ক্ষেত্রে আসল ছবি প্রকাশে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকে। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
রাজস্থানের কোটায় আবার পড়ুয়া আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল। পুলিশ জানিয়েছে, চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবন শেষ করলেন ১৮ বছর বয়সি জেইই মেন পরীক্ষার্থী। এই নিয়ে চলতি বছরে কোটাতে ১০ পড়ুয়া মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
পুলিশ সূত্রে খবর, কানপুরের বাসিন্দা উজ্জ্বল মিশ্র দশম শ্রেণির পরীক্ষায় পাশ করার পর থেকেই কোটায় ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। থাকতেন রাজীব গান্ধী নগর এলাকায়। আগামী বুধবার জেইই মেন পরীক্ষায় বসার কথা ছিল তাঁর। পরীক্ষা পড়েছিল লখনউতে। সোমবারই তাঁর কানপুরের নিজের বাড়িতে ফেরার কথা ছিল উজ্জ্বলের। কিন্তু তাঁর আগেই আত্মহত্যা করলেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ হস্টেল থেকে বেরিয়ে কোটা স্টেশনে যান উজ্জ্বল। তার পর আচমকাই চলন্ত ট্রেনের সামনে শুয়ে পড়েন তিনি। ওই ট্রেনের চালকই আত্মহত্যার ঘটনা কর্তৃপক্ষকে জানান। তাঁর কথায়, হঠাৎ ওই তরুণ ট্রেন লাইনে শুয়ে পড়েন। কিন্তু ট্রেনের গতি এত বেশি ছিল, ফলে থামানো সম্ভব হয়নি। যদিও পুলিশ মৃতের কাছ থেকে কোনও সুইসাইড নোট পায়নি।
কেন আত্মহত্যা করলেন উজ্জ্বল? পুলিশ তাঁর সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে ২ এপ্রিল পরীক্ষায় বসার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। তাই মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন। তবে উজ্জ্বল যে আত্মহত্যা করবেন, তা ভাবতে পারেননি কেউই। সোমবার পুত্রের দেহ নিতে কোটায় আসেন দীপক মিশ্র।
সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে পড়ুয়ারা নিট এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকার প্রস্তুতি নিতে এই কোটা শহরে আসেন। এখানে থেকে পড়াশোনা করেন। সেই পড়াশোনার চাপের কারণেই অনেকে চরম পদক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ। ২০২৪ সালে কোটায় ১৭ জন পড়ুয়া আত্মঘাতী হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে ২৩ জনের আত্মহত্যার অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল। চলতি বছরে ইতিমধ্যেই সেই সংখ্যা ১০ ছুঁয়েছে।