রাধিকার সঙ্গে কদম বনে দুলছেন কৃষ্ণ। নাম তার ঝুলন উত্সব হলেও আসলে তা দোল দোল দুলুনির বেশি কিছু নয়। কিন্তু দ্বাপরের প্রেমিক ঠাকুরটি যা পারেননি, কলিতে তা করে দেখালেন রেশমা-জয়দীপ। মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের এই যুগল বিয়ে সারলেন দুই পাহাড়ের মাঝে ৬০০ ফুট উঁচুতে ঝুলতে ঝুলতে। আকাশেই ছাদনাতলা, আকাশেই শুভদৃষ্টি, এমনকী মালা বদলও!
দু’জনেই পর্বতারোহী। তাই সম্বন্ধ করে বিয়ে হলেও অ্যাডভেঞ্চারের প্রতি ভালবাসাই যে মনের মিল ঘটিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিয়েটাও তারা সেরে ফেললেন মেঘে ভেসে ভেসেই। রবিবার দুপুরের শুভলগ্নে ভট্টালি গ্রামের ৩ হাজার ফুট উঁচু বিশালগড় ও পানহালা শৃঙ্গের মাঝের উপত্যকায় মাটি থেকে ৬০০ ফুট উঁচুতেই হয়ে গেল ৪ চোখের মিলন। আর দু’দিকের পাহাড় থেকে সেই বিয়ের সাক্ষী হলেন আত্মীয়-বন্ধু, গ্রামবাসী মিলিয়ে প্রায় বারোশো নিমন্ত্রিত।
তবে আকাশে ঝুলে ঝুলে বিয়ে করলেও বর-কনের পরনে কিন্তু ছিল একেবারে ট্রাডিশনাল মরাঠি বিয়ের পোশাক। ডবল নাইলন-ফাইবার দড়িতে ঝুলে ঝুলে নতুন বউয়ের গলায় মঙ্গলসূত্র পরালেন যাদব। তবে বর কনে পাক্কা পর্বতারোহী হলেও পুরোহিতকে তাদের সাধ মেটাতে বেশ বেগ পেতে হল। জীবনে প্রথম বার মাঝ আকাশে ঝুলতে হল তাঁকে। কিন্তু তাতেও কোনও ত্রুটি রাখেননি আচারে। দুরু দুরু বুকেই ৪০ মিনিট ধরে বিয়ে দিলেন জয়দীপ-রেশমার। শুধু একটাই আক্ষেপ। সাত পাতে বাঁধা পড়লেন না বর-কনে। তা কি আর আকাশে ঝুলে ঝুলে সম্ভব!
মাঝ আকাশে বিয়ের পর স্থানীয় এক মন্দিরে গিয়ে ভগবানের আশীর্বাদ নেন নব দম্পতি। তার পর মসালা পোলাও, সব্জি, ডাল ও মিষ্টি শিরা দিয়ে হয় বিয়ের ভোজ।
রবিবারে বিয়ে হলেও তার রিহার্সাল চলে তিন দিন ধরে। শুক্রবার থেকে বর-কনের সঙ্গে ছিল মুম্বই মালয় অ্যাডভেঞ্চারের প্রেসিডেন্ট মাহিবুব মুজাওয়ার। টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছে কোলাপুর হিলরাইডার্স ও হাইকার্স গ্রুপ। এ ছাড়াও বিয়ের আয়োজনের দায়িত্বে ছিল ওয়েস্টার্ন মাউন্টেন স্পোর্টস, কোলাপুর। খরচ হয়েছে ৫০,০০০ টাকা।
আরও পড়ুন: জলে ভাসছে কাজিরাঙার গন্ডার, হরিণ