কেন্দ্রীয় নীতির ঠেলায় রাজ্যপালদের ‘আস্তাকুঁড়’ হওয়ায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে মিজোরাম। তারই জেরে নবনিযুক্ত রাজ্যপালের শপথগ্রহণের সময় নজির ভেঙে বিক্ষোভে সামিল হলেন অতিথিবৎসল মিজোরা!
আট মাসের মধ্যে ৭ বার রাজ্যপাল বদলের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজ্যের সব কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানাতে চলেছে রাজ্যের সব চেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন। ৯ এপ্রিল মিজোরাম সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি। বিক্ষোভ দেখানো হবে তাঁর সামনেও। গোটা দেশে বিজেপি ঝড়েও মিজোরামে কংগ্রেসের দুর্গ অক্ষত। রাজ্যপাল বদলকে অস্ত্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত আরও বাড়ছে ওই দলের।
গত মাসে আজিজ কুরেশিকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকে মিজোরামের দায়িত্ব দেয় কেন্দ্র। গত কাল রাজভবনে শপথ নেন ত্রিপাঠী। মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহওলা-সহ মন্ত্রিসভার সদস্য, বিধায়ক, আমলারা সেখানে হাজির ছিলেন। কিন্তু, রাজভবনের বাইরে তখন বিক্ষোভ দেখায় এমজেডপি। তাদের দাবি, “মিজোরাম আস্তাকুঁড় নয়। কোনও রাজ্যপালেই আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু রাজ্যপাল বদলের এই খেলা বন্ধ হোক। রাজ্যপাল যেন পুরো মেয়াদ শেষ করতে পারেন।” এমজেডপি জানায়, ফের রাজ্যপাল বদল তারা মেনে নেবে না। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রামডিনলিয়ানা রেন্থলেইয়ের মন্তব্য, “এই ব্যবহারে রাজ্যপালের পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এতে মিজোরামবাসীর প্রতি কেন্দ্রের তাচ্ছিল্যেও স্পষ্ট হয়েছে।”
ছাত্র সংগঠনটি জানিয়েছে, রাজ্যপাল বদলের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ চলবে। আগামী ৭ এপ্রিল রাজ্যে সব কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর তারা বন্ধ করে দেবে। দফতরগুলিতে ওড়ানো হবে প্রতিবাদের কালো পতাকা। ৯ এপ্রিল মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আসতে চলেছেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দেখা করে প্রতিবাদ জানানো ও স্মারকলিপি দেওয়ার চেষ্টা করবে এমজেডপি।
কংগ্রেস দলীয় ভাবে এই ঘটনাকে বিজেপির বৈমাত্রেয় মনোভাব বলে সমালোচনা করেছে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিৎ দেব কেন্দ্রীয় নীতির সমালোচনা করে বলেন, “এতে গোটা দেশের কাছে মিজোরাম নিয়ে ভুল বার্তা যাচ্ছে। রাজ্যের শাসন পরিকাঠামোর জন্যও বিষয়টি ক্ষতিকর।” মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওলা বলেন, “কেন্দ্রের মনোভাব নিয়ে কিছু বলার নেই। গত ৮ মাসে ৭ বার রাজ্যপাল বদল করা হল। কিন্তু, সরকারি ভাবে বা সৌজন্যের খাতিরেও মুখ্যমন্ত্রীকে সেই বিষয়ে কখনও জানানো হয়নি।”