Mansoor Khan about Laal Singh Chaddha

‘লাপতা লেডিজ়’-এর পর ‘লাল সিংহ চড্ডা’, আমিরের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন প্রথম ছবির পরিচালক

মনসুর মনে করেন ‘ফরেস্ট গাম্প’ ছবির আত্মীকরণ খুব ভাল ভাবেই হয়েছিল ‘লাল সিংহ চড্ডা’ ছবিতে। কিন্তু অনেকাংশে আমিরের অভিনয় দর্শককে আকর্ষণ করতে পারেনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:১৫
Share:

বলিউডে আমির খান পা রেখেছিলেন মনসুর খান পরিচালিত (ডান দিকে) ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ ছবি দিয়েই। ছবি: সংগৃহীত।

‘লাপতা লেডিজ়’ ছবির জন্য অডিশন দিয়েছিলেন আমির খান। কিন্তু তাঁকে বাতিল করে অভিনেতা রবি কিশনকে মনোনীত করেছিলেন আমিরের প্রাক্তন স্ত্রী কিরণ রাও। ছবিতে পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকায় রবির অভিনয় প্রশংসা পেয়েছে। এমনকি আমিরের অডিশন ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর নেটাগরিকেরাও একবাক্যে স্বীকার করেছেন, রবিই অনেক বেশি মানানসই।

Advertisement

এ বার, ‘লাল সিংহ চড্ডা’ ছবিতেও আমিরকে না নিলেই ভাল হত বলে দাবি করলেন পরিচালক মনসুর খান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মনসুর খান জানিয়েছেন, ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ওই ছবিতে আমিরের অভিনয় মোটেও ভাল লাগেনি তাঁর। বরং ওই চরিত্রে তাঁর ছেলে জ়ুনেইদ খানকে সুযোগ দেওয়া হলে আরও ভাল হতে পারত। উল্লেখ্য, ‘লাল সিংহ চড্ডা’ ছবিটি সমালোচকের প্রশংসা পায়নি, সাফল্য মেলেনি বক্স অফিসেও। দীর্ঘ দিন পর এই ছবিতে কাজ করেছিলেন আমির। এমনকি তার পর থেকে আর কোনও ছবির কাজে হাতও দেননি তিনি।

মনসুর খান ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একের পর মনোজ্ঞ ছবি উপহার দিয়েছেন বলিউডকে। আমিরের প্রথম ছবি ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর পরিচালক মনসুর আসলে অভিনেতার তুতো দাদা। শুধু প্রথম ছবিই নয়, মনসুর পরিচালিত ‘যো জিতা ওহি সিকন্দর’, ‘আকেলে হম আকেলে তুম’ও আমিরের অভিনয়জীবনের অন্যতম সফল দু’টি ছবি।

Advertisement

সম্প্রতি মনসুর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যে কোনও ছবিতে অভিনয় করলে আমির তাঁর ঘনিষ্ঠদের প্রথমে সেই কাজ দেখান। এই ঘনিষ্ঠদের মধ্যে প্রথম সারিতে পড়েন মনসুর। তিনি বলেন, “কাজটা দেখেই আমিরকে বলেছিলাম, ‘অভিব্যক্তিতে এতটা অতিনাটকীয়তার দরকার ছিল না’। আমার মনে হয়েছিল ওর অভিনয়ে ‘পিকে’-র ছাপ পড়েছে। আর আমির সেটা স্বীকারও করে নিয়েছিল।” এমনকি আমির এ-ও জানিয়েছিলেন, এই অতিনাটকীয়তা তাঁরই সংযোজিত। পরিচালক অদ্বৈত চন্দন এমনটা করতে বলেননি তাঁকে।

উল্লেখ্য, এ ছবির জন্য অডিশন দিয়েছিলেন আমির-পুত্র জ়ুনেইদ খানও। মনসুর বলেন, “জ়ুনেইদের অডিশন দেখেছিলাম। আমি মনে করি, ও খুব ভাল করেছিল। ওই সারল্য কোনও অভিজ্ঞ অভিনেতার পক্ষে ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব। আমি বলেছিলাম জ়ুনেইদকে ছবিতে নেওয়া উচিত।”

মনসুর জানান, তিনি পরিচালক হলে জ়ুনেইদকেই বাছতেন এবং সে ক্ষেত্রে অবশ্য বাদ পড়তেন করিনা কপূরও। কিন্তু সেই ঝুঁকিটাই নিতে পারেননি ‘লাল সিংহ চড্ডা’র পরিচালক-প্রযোজকেরা। তিনি বলেন, “ওরা তো চমকে গেল, বাজার ধরতে পারবে না! এ সব আবার কী, আমি তো মনে করি এ সব বাজে কথা।”

মনসুর মনে করেন ‘ফরেস্ট গাম্প’ ছবির আত্মীকরণ খুব ভাল ভাবেই হয়েছিল ‘লাল সিংহ চড্ডা’ ছবিতে। কিন্তু অনেকাংশে আমিরের অভিনয় দর্শককে আকর্ষণ করতে পারেনি। বিশেষত, ছোটবেলার অংশের অভিনয় বাস্তবসম্মত হয়নি বলেই মনে করেন তিনি।

২০০০ সালে শাহরুখ খান, ঐশ্বর্যা রাই এবং চন্দ্রচূড় সিংহকে নিয়ে মনসুর পরিচালনা করেছিলেন ‘জোশ’। তার পর একটি ছবি প্রযোজনা করেছেন তিনি— ‘জানে তু ইয়া জানে না’, ২০০৮ সালে। ২০০০ সালের পর থেকেই মনসুর নিজের ব্যবসায় মন দিয়েছেন। পরিচালনায় তাঁকে আর দেখা যায় না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement