গত অর্থবর্ষে দেশের পাইকারি গাড়ি ব্যবসায় সার্বিক ভাবে যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি ছিল সর্বাধিক। প্রতীকী ছবি।
অতিমারির ধাক্কা কাটিয়ে রাস্তায় হরেক রকমের নতুন এবং বড় যাত্রিবাহী গাড়ির ছুটোছুটি এখন সহজেই চোখে পড়ে। গাড়ি সংস্থাগুলির সংগঠন সিয়ামের তথ্যও বলছে, গত অর্থবর্ষে দেশের পাইকারি গাড়ি ব্যবসায় (সংস্থাগুলি শো-রুমের ডিলার বা বিক্রেতাদের যে গাড়ি বিক্রি করে) সার্বিক ভাবে যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি ছিল সর্বাধিক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উজ্জ্বল ছবির আর একটু গভীরে গিয়ে কাটছেঁড়া করলেই প্রকট হয়ে পড়বে বাজারের সব ক্ষেত্রে সাম্য নেই। বরং কম দামি যাত্রিবাহী গাড়ি বিক্রির বিপুল সঙ্কোচন ফের দেশের অর্থনীতিতে বৈষম্যের বিতর্ককে বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনেকরছেন তাঁরা। গত অর্থবর্ষে কমদামি স্কুটারের মতো দু’চাকার গাড়ি বিক্রিও কমে গিয়েছে। মূলতগ্রামাঞ্চল এবং মফস্সল যার বিরাট বড় বাজার।
কেন্দ্র এবং দেশের গাড়ি শিল্পমহলের একাংশ করোনা পরবর্তীকালে চাকা ঘোরার দাবি করলেও, পরিসংখ্যানে বার বার কম দামি গাড়ির বাজারের ধাক্কা খাওয়ার ছবি উঠে আসছে। সম্প্রতি গাড়ি বিক্রেতা বা ডিলারদের সংগঠন ফাডা জানায়, গত অর্থবর্ষে (২০২২-২৩) দোকান (শো-রুম) থেকে দু’চাকার গাড়ি বিক্রি গত সাত বছরের সবচেয়ে নীচে ছিল। ট্র্যাক্টরের বিক্রি বাড়লেও, তা আহামরি কিছু নয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এটাই প্রমাণ করে গ্রামীণ ভারতের অর্থনীতি এখনও তেমন ছন্দে ফেরেনি।
অন্য দিকে, সিয়ামের তথ্য বলছে, যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি ২০২২-২৩ সালে নজির গড়েছে। কিন্তু সেখানেও দেখা যাচ্ছে কম দামি যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি ২০১৬-১৭ সালের (যখন বিক্রি সর্বোচ্চ হয়েছিল) চেয়ে গত বছর কমেছে ৫৭%। কম দামি দু’চাকার বিক্রিও কমে গিয়েছে। ২০১৮-১৯ সালে দামি স্কুটার ও মোটরসাইকেলের বিক্রি সর্বোচ্চ ছিল। তার তুলনাতেও গত অর্থবর্ষে দু’ধরনের গাড়িরই বিক্রি কমেছে যথাক্রমে ২৭% ও ৩৮%। সিয়ামের ডিজি রাজেশ মেনন জানান, দু’চাকা, তিন চাকা এবং বাণিজ্যিক গড়ির বিক্রি এখনও প্রাক-করোনা পর্বে ফিরতে পারেনি।
যদিও সিয়ামের প্রসিডেন্ট বিনোদ আগরওয়ালের দাবি, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত অর্থবর্ষের ব্যবসায় অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশাবাদী, চলতি অর্থবর্ষে চাহিদা আরও বাড়বে।