নতুন হন্ডা সিআর-ভি।
২০০৯ সাল। রণবীর কপূর হাজির দারুণ এক সিনেমা নিয়ে, ‘ওয়েক আপ সিড’। যাঁরা দেখেছিলেন সিনেমাটা, মনে করতে পারবেন সিনেমার শুরুতেই পরীক্ষা শেষের আনন্দে সিড এবং তার তিন বন্ধু গাড়ি করে সারা দিন রাত ঘুরেছিল। ছাদের কিছুটা খোলা, বড় চাকার ওই গাড়ি দেখে তখনই মনে ধরেছিল সেই গাড়ি। হন্ডা সিআর-ভি, তখন সেই গাড়ির দাম ছিল প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হন্ডার নিজের মার্কেট তৈরি হয়েছে, আরও বেশি মানুষ দামী গাড়ি, এসইউভি কেনার দিকে উত্সাহ দেখাচ্ছেন। এই বাজারের উপর নিজের জায়গা আরও বাড়াতে পাঁচ নম্বর প্রজন্মের সিআর-ভি হাজির করেছে হন্ডা। এই প্রথম বার এই গাড়িতে ডিজেল ইঞ্জিন নিয়ে আসা হল।
প্রথম বারের জন্য পেট্রল এবং ডিজেল, দু’রকমের ইঞ্জিন শুধু নয়, রয়েছে আংশিক ছাদ খোলার জায়গা, দিনের বেলার জন্যও এলইডি হেডলাইট, গাড়ির একাধিক নতুন বৈশিষ্ট্য এবং যাত্রী সুরক্ষার একাধিক বিষয়কেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যে কারণে হন্ডা সিআর-ভি মানুষের এত পছন্দ ছিল, সেটা হচ্ছে তার লুক। সেই দিকেই কিছু অদলবদল ঘটিয়ে আরও আকর্ষণীয় রূপে হাজির হয়েছে নতুন প্রজন্মের গাড়ি। একেবারে সামনেটা গত বারের তুলনায় আরও বেশি ছুঁচলো, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও টান টান হেডলাইট। গাড়ির বডিটা দেখলে মনে হয়, আরও পেশীবহুল হয়ে উঠছে, ও দিকে ইঞ্জিন হুড লম্বা করে এবং গাড়ির পিছনের অংশকে না বাড়িয়ে আরও বেশি আক্রমণাত্মক, আরও বেশি গতিশীল দেখাচ্ছে নতুন সিআর-ভি-কে।
আরও পড়ুন: ছিপ ফেলা যায় শেয়ার কিনতে
আরও পড়ুন: ন’বছরে সবচেয়ে শ্লথ চিনের ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার
গাড়ির ভিতরেও রয়েছে চমক। এমনিতেও গাড়ির ভিতরে প্রচুর জায়গার জন্য বিখ্যাত ছিল সিআর-ভি। এ বার সেই জায়গা আরও বেড়েছে, ফলে আপনার যাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্য, আরও আরামের হবে। দামী গাড়ি, ফলে সেই দামের চাপ দেখতে পাবেন গাড়ির সিট থেকে ড্যাশ বোর্ড, সব জায়গায়।
১.৬ লিটারের ডিজেল ইঞ্জিন গাড়ির সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১২০ পিএস আর সর্বোচ্চ টর্ক ৩০০ এনএম। দু’রকমের মডেল রয়েছে ডিজেল ইঞ্জিনের, ২ হুইল ড্রাইভ হলে তার মাইলেজ ১৯.৫ কিমি প্রতি লিটারে, আর অল হুইল ড্রাইভ হলে ১৮.৩। ২ লিটারের পেট্রল ইঞ্জিনের ক্ষমতা একটু বেশি, সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১৫৪ পিএস, সর্বোচ্চ টর্ক ১৮৯ এনএম।
সিআর-ভি গাড়ি প্রকাশের সময় হন্ডা ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং সিইও গাকু নাকানিশি বলেন, পুরো পৃথিবীতে অত্যন্ত সফল এই গাড়ি এ বার নিয়ে আসা হল ভারতে, এসইউভি প্রেমিকদের কথা মাথায় রেখেই। সেই ২০০৩ থেকে মানুষকে প্রিমিয়াম এসইউভি গাড়ির স্বাদ দিয়ে চলেছে হন্ডা সিআর-ভি। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের এসইউভি গাড়ির প্রতি টান কোম্পানির নজর এড়িয়ে যায়নি। কোম্পানির বিশ্বাস, ভারতের বাজারেও দারুণ চলবে এই গাড়ি, ওলটপালট করে দিতে পারে এসইউভি গাড়ির বাজার। শুধু গাড়ি বিক্রি নয়, তার পর তার খেয়াল রাখার জন্য বছরে এক বার করে অথবা ১০,০০০ কিমি (যেটা আগে হবে) অন্তর গাড়ির সার্ভিসিংয়ের দায়িত্ব হন্ডার, তিন বছরের জন্য। সেটাকে আরও দু’বছরের জন্য বাড়াতে পারেন ক্রেতা।