IPL 2025

এক ম্যাচ জিতেই আইপিএল জয়ের উৎসবের পরিকল্পনা করে ফেলেছে পঞ্জাব! ফাঁস করলেন অর্শদীপ

গত ১৭ বছরে আইপিএলে পঞ্জাব কিংসের সেরা সাফল্য ২০১৪ সালে রানার্স হওয়া। এ বার সমর্থকদের ট্রফি উপহার দিতে বদ্ধপরিকর পঞ্জাবের ক্রিকেটারেরা। জয়ের উদ্‌যাপনের পরিকল্পনাও করা হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:৫৬
picture of Arshdeep Singh

অর্শদীপ সিংহ। ছবি: বিসিসিআই।

প্রথম বছর থেকে আইপিএল খেলছে পঞ্জাব কিংস। ২০২০ সাল পর্যন্ত দলের নাম ছিল কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। ২০১৪ সালে ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তারা। আর কখনও আইপিএল ফাইনাল খেলেনি পঞ্জাব। এ বারের প্রতিযোগিতা সবে শুরু হয়েছে। অথচ চ্যাম্পিয়ন হলে কী ভাবে উৎসব করা হবে, সেই পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলেছেন পঞ্জাব কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

প্রত্যাশিত সাফল্যের খোঁজে আইপিএলে প্রায় প্রতি বছর অধিনায়ক পরিবর্তন করেছে পঞ্জাব। এ বার পঞ্জাবকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গত মরসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। পঞ্জাব কর্তৃপক্ষের আশা, এ বার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন তাঁরা। নিজেদের আশায় আস্থা রেখে উদ্‌যাপনের সব পরিকল্পনাও করে রাখা হয়েছে। আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে দল কী ভাবে উদ্‌যাপন করবে, তা ফাঁস করে দিয়েছেন অর্শদীপ সিংহ। জানিয়েছেন আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হলে ছাদ খোলা বাসে চণ্ডীগড়ে ঘোরানো হবে দলকে।

এক সাক্ষাৎকারে বাঁহাতি জোরে বোলার বলেছেন, ‘‘আমাদের দলটা খুব প্রাণবন্ত। সাজঘরের পরিবেশও দুর্দান্ত। মনে হয় এ বার আমরা পঞ্জাবের সমর্থকদের উৎসবের সুযোগ করে দিতে পারব। এখনই বেশি কিছু বলব না। তবে আমি ভীষণ উত্তেজিত। আমরা এ বছর সমর্থকদের আনন্দ দেওয়ার মতো ক্রিকেট খেলতে চাই। যাঁরা আমাদের গত ১৭ বছর ধরে সমর্থন করছেন, তাঁদের কিছু ফিরিয়ে দিতে চাই আমরা। তাঁদের সমর্থন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁদের মনে রাখার মতো স্মৃতি উপহার দেওয়ার জন্য আমরা নিজেদের উজাড় করে দেব। আমাদের লক্ষ্য খুব সাধারণ। ১৬টি ম্যাচ খেলা এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আইপিএল জিতলে আমরা চণ্ডীগড়ের রাস্তায় ছাদ খোলা বাসে চেপে সমর্থকদের সঙ্গে উৎসবে মাতব।’’

সাক্ষাৎকারে নিজের লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছেন অর্শদীপ। চাপের সময় বোলিং উপভোগ করেন তিনি। অর্শদীপ বলেছেন, ‘‘দল যখন চাপে থাকে, সে সময় বল করাটা বেশ উপভোগ করি। মনে হয়, আমার উপর দলের ভরসা রয়েছে। সে সময় প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি কমাতে পারলে বা উইকেট তুলে নিতে পারলে খুব ভাল লাগে। অতিরিক্ত দায়িত্বটা উপভোগ করি। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, নিজেকে কখনও চাপে ফেলি না। লক্ষ্য থাকে শুধু সেরা বোলিং করা। এক দিনে সফল হওয়া যায় না ঠিকই। নিশ্চিত করার চেষ্টা করি যাতে হতাশাজনক পরিস্থিতি আমার বোলিংকে প্রভাবিত না করে। মনে করি প্রতিটি বল আমাদর কাছে একটা নতুন সুযোগ। দলের জয়ের জন্য সব সময় নিজের সবটা দেওয়ার চেষ্টা করি।’’

আইপিএল থেকেই উঠে এসেছিলেন অর্শদীপ। এখন ভারতের সাদা বলের ক্রিকেট দলের নিয়মিত সদস্য। সাফল্য তাঁকে বদলাতে পারেনি বলেও দাবি করেছেন বাঁহাতি জোরে বোলার। অর্শদীপ বলেছেন, ‘‘জীবন খুব একটা বদলায়নি। একই রকম আছে প্রায়। তবে কিছু আনন্দ যোগ হয়েছে। অনেকে বলেন, পরিবর্তন এগিয়ে নিয়ে যায়। আমার মতে, এই পর্যায়ের ক্রিকেটে ধারাবাহিক থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খেলায় উত্থান-পতন থাকবেই। তার সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়। মানসিক ভাবে শক্তিশালী থাকার চেষ্টা করি। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই। সব মিলিয়ে আসন্ন মরসুমে ভাল কিছু করার আশায় আছি।’’

গত তিন বছরও পঞ্জাবের হয়ে আইপিএল খেলেছেন অর্শদীপ। এ বার তাঁকে প্রথমে ধরে না রাখলেও নিলামের সময় ‘রাইট টু ম্যাচ’ নিয়মের সুবিধা কাজে লাগিয়ে অর্শদীপকে দলে রেখে দেন পঞ্জাব কর্তৃপক্ষ। নিলামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১৫.৭৫ কোটি দাম দেওয়ার পর অর্শদীপের জন্য ১৮ কোটি টাকা খরচ করে পঞ্জাব।

Advertisement
আরও পড়ুন