ছবি: সংগৃহীত।
সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও রাতে ঘুম আসতে চায় না অনেকের। বিছানায় এ পাশ-ও পাশ করেই কেটে যায় রাতটুকু। জীবনযাপনের জটিলতা ও খাদ্যাভ্যাসের গোলমাল থেকেও অনিদ্রাজনিত সমস্যা হয়। নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য সুগন্ধ-চিকিৎসার শরণাপন্ন হন অনেকে। তাতেও কাজ না হলে শেষমেশ ঘুমের ওষুধ খেতে হয়। তবে এই ধরনের ওষুধের উপর একেবারে নির্ভরশীল হয়ে পড়াও কাজের কথা নয়। যোগ প্রশিক্ষকেরা বলছেন, বিছানায় শুয়ে শুয়ে কয়েকটি যোগাসন অভ্যাস করলেই সমস্যার সমাধান করে ফেলা যায়। শিখে নিন পদ্ধতি।
ঘুমোনোর আগে বিছানায় শুয়ে শুয়ে কোন তিনটি আসন করবেন?
১) আনন্দ বালাসন:
হাত ও পা ছড়িয়ে বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে শুয়ে পড়ুন। এ বার হাঁটু মুড়ে পেটের কাছে নিয়ে আসুন। হাত দু’টি প্রসারিত করে পায়ের পাতা দু’টি ধরুন। হাঁটু দু’টির মধ্যে যেন বেশ খানিকটা দূরত্ব থাকে। এ ভাবে ৬০ সেকেন্ড থাকুন। শরীরের যাবতীয় ক্লান্তি দূর করবে এই আনন্দ বলাসন। পিঠের পেশির স্ট্রেচিংয়েও সাহায্য করবে।
২) সুখাসন:
প্রথমে শিরদাঁড়া সোজা করে পা সামনের দিকে ছড়িয়ে বসুন। এ বার হাঁটু বেঁকিয়ে নিয়ে বাঁ দিকের পা ডান দিকের হাঁটুর তলায় রাখুন এবং আপনার ডান দিকের পা বাঁ দিকের হাঁটুর তলায় রাখুন। এ বার হাতের তালু দু’টি হাঁটুর উপরে রাখুন। মাথা, ঘাড় ও শিরদাঁড়া যেন এক সরলরেখায় থাকে। সোজাসুজি তাকিয়ে স্বাভাবিক শ্বাস নিন। এ ভাবে ৬০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এই আসনের ফলে মন শান্ত হবে, চিন্তা কমবে ও উদ্বেগ দূর হবে। সেই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তিও দূর হবে।
৩) বিপরীত করণী
প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই পা একসঙ্গে করে মাটি থেকে উপরে তুলুন। এ বার হাতে ভর দিয়ে কোমর ধীরে ধীরে উপর দিকে তুলতে চেষ্টা করুন। শরীরের অবস্থান অনেকটা সর্বাঙ্গাসনের মতো হবে। প্রথম প্রথম দেওয়ালে ঠেস দিয়ে এই আসন অভ্যাস করুন। রপ্ত হয়ে গেলে, দেওয়ালে ভর না দিয়েই এই আসন করা ভাল। খেয়াল রাখতে হবে এই আসন অভ্যাস করার সময়ে শ্বাস-প্রশ্বাস যেন স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। প্রথমে খুব বেশি ক্ষণ করার প্রয়োজন নেই। অভ্যাস হলে তার পর সময় বাড়াতে হবে। প্রথমে কোমরের তলায় উঁচু বালিশ দিয়ে এই আসন অভ্যাস করা যেতে পারে।