গরমে শসার কাঞ্জি খেলে বাড়তি কোনও উপকার হবে? ছবি:ফ্রিপিক।
এখনও মার্চ মাস শেষ হয়নি। তাতেই রোদের তাপে কাহিল হওয়ার জোগাড়। গরম পড়তেই খেতে অনীহা, পেটের সমস্যাও শুরু হচ্ছে। চিকিৎসকেরাও জোর দিচ্ছেন তরল খাবারে। খেতে বলছেন জল থেকে স্যুপ, জল রয়েছে এমন ফল।
কিন্তু রোদে তেতেপুড়ে এলে কি আর শুধু জলে তেষ্টা মেটে! হাতের সামনে রঙিন শরবত পেলে মন যেন আরও খুশি হয়। কিন্তু কৃত্রিম সিরাপ দিয়ে শরবত বানালে তাতে রং, রাসায়নিক এবং শর্করা যাবে শরীরে। তা স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী নয়। তার চেয়ে বরং চুমুক দিতে পারেন শসার কাঞ্জিতে। গরমে শুধু প্রাণ নয়, পেটের স্বাস্থ্যও ভাল রাখবে পানীয়টি।
কাঞ্জি হল ফার্মেন্টেড বা গেঁজিয়ে নেওয়া পানীয়। এতে প্রোবায়োটিক থাকে যা পেটের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। প্রোবায়োটিক অন্ত্রে ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যা হজমের জন্য জরুরি।
শসা কাঞ্জির উপকারিতা
· শসার সিংহভাগই জল। এতে ভিটামিন, খনিজও থাকে সামান্য পরিমাণে। ফলে গরমের দিনে জলের ঘাটতি মেটাতে শসা অত্যন্ত উপযোগী।
· শসার কাঞ্জি যে হেতু গেঁজিয়ে বা মজিয়ে তৈরি হয়, এতে থাকা প্রোবায়োটিক হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। অন্ত্রে ভাল ব্যাক্টেরিয়ার বর্ধিত সংখ্যা বিপাকহারেও প্রভাব ফেলে। ফলে শুধু শসা খেলে শরীরে জলের চাহিদা পূরণ হবে, কিন্তু কাঞ্জি পেটের স্বাস্থ্যও ভাল রাখবে।
· অন্ত্রে ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পরোক্ষে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ছোটখাটো সংক্রমণ ঠেকাতে যা ভীষণ জরুরি।
কী ভাবে বানাবেন শসার কাঞ্জি?
· ২ মাঝারি মাপের শসা খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করে নিন।
· একটি পরিষ্কার বড় কাচের পাত্রে চার কাপ পানীয় জল নিয়ে তার মধ্যে ২ টেবিল চামচ সর্ষের গুঁড়ো, আধ চা-চামচ সৈন্ধব নুন, এক চিমচে হিং মিশিয়ে নিন। তার মধ্যে যোগ করুন শসার টুকরো।
· কাচের পাত্রটির সুতির কাপড়ে ঢেকে ঢাকনা আলগা করে দিয়ে রাখুন। ২-৩ দিন সেটি একটু গরম জায়গায় রাখতে হবে। প্রতি দিন এক বার জলটি চামচের সাহায্যে নাড়িয়ে দিন।
· মোটামুটি দিন ৩-৪ বাদে চেখে দেখুন। জলে হালকা টক ভাব এলে, শসা মজে গেলে, বুঝতে হবে পানীয়টি প্রস্তুত। শসা ছেঁকে জলটি ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে খান।