স্বামী দিলীপের সঙ্গে প্রগতি। ছবি: সংগৃহীত।
প্রেমিক থাকা সত্ত্বেও নিজের অমতে জোর করে বিয়ে দিয়েছিলেন পরিজনেরা। তাই ভাড়াটে খুনি দিয়ে বিয়ের মাত্র দু’সপ্তাহের মাথায় স্বামীকে খুন করালেন তরুণী। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়া জেলায় ঘটনাটি ঘটেছে, যা মনে করাচ্ছে মেরঠকাণ্ডের স্মৃতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তরুণীর নাম প্রগতি যাদব। ২২ বছর বয়সি ওই তরুণীর অনুরাগ যাদব নামে এক যুবকের সঙ্গে গত চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক মেনে নেয়নি প্রগতির পরিবার। গত ৫ মার্চ দিলীপ নামে এক যুবকের সঙ্গে এক প্রকার জোর করেই মেয়ের বিয়ে দেন তাঁরা। এর পরেই প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর পরিকল্পনা করতে শুরু করে দেন প্রগতি। কিন্তু ‘পথের কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন দিলীপ। শেষমেশ দিলীপকে খুনের জন্য খুনি ‘ভাড়া’ করেন ওই যুগল।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৯ মার্চ দিলীপকে একটি মাঠে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়েরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই পর দিন তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর দিলীপের ভাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে জানা যায়, খুনের নেপথ্যে রয়েছেন খোদ দিলীপের সদ্যবিবাহিতা স্ত্রী এবং তাঁর ‘প্রেমিক’! এমনকি, দিলীপকে খুনের জন্য দু’জনে মিলে রামাজি চৌধুরি নামে এক জন সুপারি খুনিকেও ভাড়া করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এ জন্য রামাজিকে অগ্রিম দু’লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তাঁরা।
গত ১৯ মার্চ রামাজি এবং আরও কয়েক জন মিলে দিলীপকে বাইকে করে একটি ফাঁকা মাঠে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছোনোর পর তাঁরা ওই যুবককে মারধর করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে লুটিয়ে পড়েন দিলীপ। তখনই রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ফেলে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন যুবকেরা। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে রামাজি-সহ তিন অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে দু’টি পিস্তল, চারটি কার্তুজ, একটি বাইক, দু’টি মোবাইল ফোন, আধার কার্ড এবং নগদ ৩,০০০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই খুনের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মেরঠে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত সৌরভ রাজপুতকে খুন করেছেন তাঁর স্ত্রী মুস্কান রস্তোগী। খুনের পর দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে ড্রামে ভরে সিমেন্ট ঢেলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ড্রামের মুখ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করলেন স্ত্রী।