শুক্রবার ভূমিকম্পের সময়ে ব্যাঙ্ককে ভেঙে পড়া বহুতলের ধ্বংসস্তূপ। ছবি: রয়টার্স।
ভূমিকম্পের সময়ে ব্যাঙ্ককে বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় জড়িত প্রতিটি সংস্থাকে তদন্তের আওতায় আনা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন তাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পি শিনাওয়াত্রা। গত শুক্রবার মায়ানমারে ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে তাইল্যান্ডেও। রাজধানী ব্যাঙ্ককে একটি ৩০তলা নির্মীয়মাণ ভবন ভেঙে পড়ে। ভূমিকম্পে তাইল্যান্ডে যা প্রাণহানি হয়েছে, তার সিংহভাগই ঘটেছে এই নির্মীয়মাণ ভবনের নীচে চাপা পড়ে। কেন এই ভবনটি ভেঙে পড়ল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে তাইল্যান্ড প্রশাসন। এ বার সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, নির্মীয়মাণ বহুতল বিপর্যয়ের ঘটনায় জড়িত সব সংস্থাকে তদন্তের আওতায় আনা হবে।
গত শুক্রবারের ওই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়তে পারে তাইল্যান্ডের অর্থনীতিতেও। সে দেশের উপ-অর্থমন্ত্রী জুলাপুন আমর্নভিভাত জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের একটি স্বল্পমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে দেশের অর্থনীতিতে। তবুও তাইল্যান্ডে ৩ শতাংশ আর্থিক উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। শুক্রবার ওই নির্মীয়মাণ ভবনটি ভেঙে পড়ার পর থেকে এই ধরনের বহুতল তৈরির নকশা, সুরক্ষাবিধি-সহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে। যে সংস্থা ওই নির্মাণের দায়িত্বে ছিল, তাদের শেয়ারদর ২৭ শতাংশ নেমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাইল্যান্ডের মন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কী কারণে এই বিপর্যয় হল, তা খতিয়ে দেখে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ব্যাঙ্ককের ওই বিপর্যয়ের পরে রাজধানী শহরের অন্য বহুতলগুলির ভূমিকম্প প্রতিরোধ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে দেশের প্রশাসন। আগামী দিনে এই ধরনের বিপর্যয় এড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ করা প্রয়োজন, তা-ও বিবেচনা করে দেখতে চাইছেন তাঁরা। ওই ৩০তলা ভবনটি কেন ভেঙে পড়ল, তা খতিয়ে দেখে অন্য ভবনগুলির ভূমিকম্প প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে চায় তাইল্যান্ডের প্রশাসন।