সোমবার চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি।
পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরের চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিনেই আলিপুরে ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে দুপুর সাড়ে ১২টায় এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে চিকিৎসা পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, আরজি কর হাসপাতালে যুবতী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর চিকিৎসক সমাজের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে রাজ্য সরকারের। তাই মনে করা হচ্ছে, সেই দূরত্ব ঘোচাতেই সরকারের তরফে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসক সমাজের সঙ্গে শাসকদল তৃণমূল তথা রাজ্য সরকারের দূরত্ব ঘোচাতে ইতিমধ্যে প্রশাসনের তরফে একাধিক উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। কিন্তু এ ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মুখোমুখি হননি চিকিৎসকেরা।
আরজি কর কাণ্ডের পর যে ভাবে চিকিৎসক সমাজে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছিল তৃণমূলেক চিকিৎসক সেল। প্রোগ্রেসিভ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনে তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়ক-কাউন্সিলর চিকিৎসকেরা থাকলেও, তাঁরা আন্দোলনের পাল্টা কৌশল গড়তে ব্যর্থ হয়েছিল। তাই শেষমেশ রাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী চিকিৎসক শশী পাঁজাকে সামনে রেখে প্রোগ্রেসিভ হেল্থ অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন গড়েছে তৃণমূল। এই সংগঠনে চিকিৎসকদের পাশাপাশি, স্বাস্থ্যকর্মীদেরও জায়গা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় সংগঠন গড়ার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলার রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, লোকসভা নির্বাচনে সাফল্য পেলেও, শহুরে জনতার ভোট গিয়েছিল শাসক-বিরোধী শিবিরের কাছে। আরজি কর আন্দোলনও শহর তথা শহরতলির ভোটারদের উপর প্রভাব ফেলেছে। শহুরে ভোটারদের মধ্যে চিকিৎসক সমাজের প্রভাব কাজ করে বলেই মনে করেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই বিধানসভা নির্বাচনের এক বছর আগে থাকতে নিজেই উদ্যোগী হয়ে চিকিৎসক সমাজের মুখোমুখি হয়ে দূরত্ব ঘোচানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন মমতা।