অলিম্পিজ়ম ৩৬৫-এর প্রস্তুতিতে মেয়েদের কবাডি সিউড়ির এক স্কুলে। ছবি: তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়।
নারী নির্যাতনে ছেদ নেই। তার উপর কোনও মেয়ে মানসিক বিকাশে পিছিয়ে থাকলে তার ভয় আরও বেশি। জেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে এমনই কয়েক জন ছাত্রীকে বাছাই করে খেলাধূলায় প্রশিক্ষণ দিয়ে লিঙ্গভিত্তিক অত্যাচারের থেকে মুক্তি করে ক্রীড়া-সক্ষম করতে উদ্যোগী ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি। ‘ইনক্লুসিভ এডুকেশন’-এর অন্তর্গত ওই কর্মসূচির নাম ‘অলিম্পিজ়ম ৩৬৫’।
বুধবার থেকে সিউড়ির বাণীমন্দির অমিতারঞ্জন শিক্ষানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে মেধা বিকাশে পিছিয়ে থাকা সিউড়ি মহকুমার ২২জন ছাত্রীকে নিয়ে কবাডির প্রশিক্ষণ শুরু হল অলিম্পিজ়ম-এর অঙ্গ হিসেবে। শুধু কবাডি নয়, ফুটবল, বোচে বলের মতো ছ’টি খেলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তাদের। তবে শুধু ২২ জনই নয়, জেলাজুড়ে আরও বেশি ছাত্রীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। বোলপুরের একটি চক্রের মাঠেও প্রশিক্ষণ হবে। মোট আঠারো মাসের প্রশিক্ষণ হবে। এ দিন মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রশিক্ষণে এসে খুশি সুধা চন্দ্র, পায়েল মণ্ডল, ঐশাখী মণ্ডল, নেহা খাতুনেরা।
জেলা সমগ্র শিক্ষা মিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ১০টি জেলা থেকে ইন্টেলেকচ্যুয়াল ডিসএবিলিটি সম্পন্ন ৬০০ ছাত্রীকে বাছাই করা হবে। রাজ্যের দু’টি মুখ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে কলকাতার বাইরে রয়েছে বীরভূম। শিক্ষার অধিকার আইন ও সমন্বিত শিক্ষার (ইনক্লুসিভ এডুকেশন) অধীনে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সেই পড়ুয়া পড়বে অন্য পড়ুয়াদের সঙ্গেই— এমন ভাবনার পিছনে রয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটিকে আত্মবিশ্বাস জোগানো ও সামর্থ্যকে উসকে দেওয়া।
সিউড়ির স্কুলে এদিন শিবির শুরু হয়েছে স্পেশাল অলিম্পিক ভারত ও আরও কয়েকটি সংস্থার মিলিত উদ্যোগে। শিবিরে উপস্থিত ইনক্লুসিভ কনসালট্যান্ট নূপুর সরকার বলেন, “নারী নির্যাতনের পরিমাণ বেশি। কিন্তু মুশকিল হল মেধা প্রতিবন্ধকতা থাকায় সেটি বুঝতে পারে না ওঁরা। খেলার মাধ্যমে জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স-এর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ওরা ঘরে-বাইরে সেটি টের পায়।” খেলাধূলা যেহেতু শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম সেই জন্য খেলাকেই বাছা হয়েছে বলে জানান নূপুর। এতে পরিচিতি তৈরি হবে, জাতীয়-আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগও মিলবে।
সিউড়ির ওই স্কুলটিকে বাছার নেপথ্যে দু’টি কারণ রয়েছে। প্রথমত, স্কুলের নিজস্ব খেলার মাঠ রয়েছে যেখানে মেয়েদের প্রশিক্ষণ নিতে সমস্যা নেই। দ্বিতীয়ত, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অক্ষয়কুমার দাস দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন খেলার প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি স্পেশাল অলিম্পিক ভারতের মাস্টার ট্রেনারও বটে। অন্য একজন মাস্টার ট্রেনার হলেন সমগ্র শিক্ষা মিশনের কো-অর্ডিনেটর শুকদেব চক্রবর্তী। ছিলেন শেখ সামিউল নামে স্পেশাল অলিম্পিকের আরও এক প্রশিক্ষক। এই প্রশিক্ষণ কাজে লাগবে এ বিষয়ে সকলেই একমত।