হাসপাতালের রাত্রি নিবাসে এক রোগীর আত্মীয়ার শ্লীলতাহানির অভিযোগে বুধবার উত্তেজনা ছড়ায় জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল চত্বরে৷ ওই ঘটনায় রাত্রি নিবাসের এক কেয়ারটেকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷
বছর সাতেক আগে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল চত্বরে ওই রাত্রি নিবাসটি তৈরি হয়েছিল৷ মূলত দূর থেকে আসা রোগীর আত্মীয়রা যাতে সেখানে রাতে থাকতে পারেন সে জন্যই জেলা স্বাস্থ্য দফতর সেটি তৈরি করেছিল৷ একটি বেসরকারি সংস্থাকে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ এখানে আঠেরো জন পুরুষ ও চার জন মহিলার থাকার ব্যবস্থা রয়েছে৷
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে বানারহাটের এক গৃহবধু তাঁর এক আত্মীয়াকে দেখতে হাসপাতালে আসেন৷ তাঁর সঙ্গে আরও এক আত্মীয় ছিলেন৷ রাতে দেরি হয়ে যাওয়ায় ফেরার বাস পাননি তাঁরা৷ বাধ্য হয়েই রাত্রি নিবাসে ওঠেন তাঁরা৷ ওই গৃহবধুর অভিযোগ, রাতে ঘরে ঢুকে দরজার ছিটকিনি বন্ধ করতে গেলে সেখানকার দু’জন কর্মী তাদের বারণ করেন। ঘরে অন্য রোগীর আত্মীয়ারা আসবেন বলে জানানো হয় তাঁদের৷ তাই ছিটকিনি খোলা রাখেন তাঁরা। কিন্তু অনেক রাত পর্যন্ত কোনও রোগীর আত্মীয়া সেখানে আসেননি৷ বরং ওই দুই কর্মী মাঝে মধ্যেই দরজা খুলে তাদের ঘরে ঢুকে পড়ছিলেন৷ গৃহবধূ বলেন, “মাঝরাতে ওই দু’জন আমাদের ঘরে ঢুকে কু-প্রস্তাব দেয়৷ প্রতিবাদ করলে ওরা আমাদের শ্লীলতাহানি করে৷”
সকাল হওয়ার পর অন্যান্য রোগীর আত্মীয় ও স্থানীয় দোকানদারদের বিষয়টি জানান ওই গৃহবধু৷ এরপরেই শুরু হয় বিক্ষোভ। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই রাত্রি নিবাসের কেয়ারটেকার অভিযুক্ত অজিত কুমার ঝাকে গ্রেফতার করে৷
ঘটনায় ক্ষুব্ধ জলপাইগুড়ির সাংসদ তথা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বিজয়চন্দ্র বর্মন হাসপাতাল সুপারকে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন৷ সুপার গয়ারাম নস্কর বলেন, ‘‘ওই গৃহবধূ আমাদের কাছে না এলেও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ এবং আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে সংস্থা রাত্রি নিবাসটি পরিচালনা করে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করব৷’’