ঝাড়খণ্ডে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা লোকো পাইলট গঙ্গেশ্বর মালের। —নিজস্ব চিত্র।
ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন (এনটিপিসি)-র লোকো পাইলট হিসাবে সুনাম ছিল। তাই চাকরিজীবনের মেয়াদবৃদ্ধি হয়েছিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা গঙ্গেশ্বর মালের। মঙ্গলবারই ছিল চাকরিজীবনের শেষ দিন। শেষ বারের মতো মালগাড়ির চালকের আসনে ছিলেন গঙ্গেশ্বর। সেটাই হল তাঁর জীবনের শেষ দিন! সহকর্মীরা যখন তাঁর অবসরজীবনের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার বারহাইটে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬৫ বছরের ওই ইঞ্জিন চালকের।
এনটিপিসি সূত্রে খবর, ২০২০ সালে চাকরিজীবনের মেয়াদ শেষ হয়েছিল গঙ্গেশ্বরের। পরে আরও পাঁচ বছরের ‘এক্সটেনশন’ হয় ট্রেনচালকের। ৩১ মার্চ ছিল কর্মজীবনের শেষ দিন। ঝাড়খণ্ড থেকে আজিমগঞ্জ জংশনে ফিরে ট্রেন ইঞ্জিন জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে অবসর নেওয়ার কথা ছিল গঙ্গেশ্বরের। সহকর্মীরা ফরাক্কা ও আজিমগঞ্জে পৃথক ভাবে দুটি বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। ঠিক সেই সময় গিয়ে পৌঁছোয় গঙ্গেশ্বরের মৃত্যুসংবাদ।
এলাকাবাসী বলছেন, ভীষণ মিশুকে প্রকৃতির মানুষ ছিলেন গঙ্গেশ্বর। জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ শহরে একাধিক ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাঁতার নিয়ে তাঁর বাড়তি আগ্রহ ছিল। জেলার নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েকে সাঁতারে আগ্রহী করার জন্য নিজেই ছুটির দিনে জলে নামতেন ওই লোকো পাইলট। মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় সাঁতার প্রতিযোগিতা। সেখানে গঙ্গেশ্বর সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। জিয়াগঞ্জ শহরে অনুষ্ঠিত ১৯ কিলোমিটার সাঁতার প্রতিযোগিতাতেও গঙ্গেশ্বর ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা। মূলত তাঁর প্রচেষ্টাতেই পুরসভার উদ্যোগে আজিমগঞ্জ শহরে তৈরি হয়েছে একটি সুইমিং পুল। এমন এক জনের এ ভাবে মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ সকলে।
জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, ‘‘গঙ্গেশ্বরবাবুর উদ্যোগে এবং পুরসভার প্রচেষ্টায় জিয়াগঞ্জ শহরে গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক একটি সুইমিং পুল। আমাদের পরিকল্পনা ছিল উনি চাকরি থেকে অবসর নিলে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করব। কিন্তু কী থেকে যে কী ঘটে গেল...!’’
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ গোড্ডা জেলা লালমাটি এলাকা থেকে একটি কয়লাবোঝাই ট্রেন ফরাক্কা এনটিপিসির উদ্দেশে যাচ্ছিল। ঝাড়খণ্ডের বারহাইট এলাকায় লুপ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি খালি মালগাড়ির ইঞ্জিনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ওই মালগাড়িটির। দু’টি ইঞ্জিনের সংঘর্ষে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এনটিপিসি-র দুই মালগাড়ি চালক অম্বুজ মাহাতো এবং গঙ্গেশ্বর-সহ তিন জনের। আহত হয়েছেন চার সিআইএসএফ জওয়ান।
এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি বিজ্ঞপ্তিতে এনটিপিসি জানিয়েছে,সংশ্লিষ্ট এমজিআর লাইনটি তাদের মালিকানাধীন এবং তারাই লাইনটির দেখভাল করে। ভারতীয় রেলের আওতাধীন নয়। তাই এই দুর্ঘটনার সঙ্গে ভারতীয় রেলের কোনও সম্পর্ক নেই।