— প্রতীকী চিত্র।
ফের পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু! বাইকে ঘুরতে বেরিয়ে কন্টেনারবাহী একটি ট্রেলারের ধাক্কায় প্রাণ গেল চার জনের। ঘটনাটি মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জ থানার অন্তর্গত নতুন ডাক বাংলো-জামিয়া কাটান এলাকায় ঘটেছে। এই ঘটনার পরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় শমসেরগঞ্জ থানায়। তাদেরকেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত ৮টা নাগাদ মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের জামিয়া কাটান এলাকায় একটি মোটরবাইকে চেপে চার জন ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক পার হচ্ছিলেন। সেই সময় ফরাক্কার দিকে যাওয়া একটি কন্টেনার গাড়ি দ্রুত গতিতে এসে ওই বাইককে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এই ঘটনায় তিন জন যুবকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এক নাবালককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মৃতদের নাম এজাজ শেখ, তৌহিদ শেখ, জাহুল শেখ এবং আসিফ শেখ। সকলের বাড়ি ফরাক্কার উত্তর মহাদেবনগর এলাকায়।
জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার আনন্দ রায় বলেন, “প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ কয়েক জন ব্যক্তি ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক পার হচ্ছিলেন। সেই সময় একটি কন্টেনার তাঁদেরকে ধাক্কা মেরে মালদহের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়। কন্টেনারটিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।”
উৎসবের আবহে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জাতীয় সড়ক থেকে দেহ উদ্ধারকাজে পুলিশকে বাধা দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর নতুন ডাকবাংলো-জামিয়া কাটান এলাকায় প্রায়শই স্থানীয় থানার সিভিক ভলান্টিয়ারেরা জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে চলাচলকারী গাড়ি থেকে বেআইনিভাবে টাকা আদায় করে। এ দিন পুলিশকে 'তোলা' না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কন্টেনারটি পথচারীদের ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দুর্ঘটনার পর সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ মৃতদেহগুলি জাতীয় সড়ক থেকে উদ্ধার করতে এলে আশপাশের গ্রাম থেকে প্রচুর বাসিন্দা এসে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। রাত ৯টা পর্যন্ত জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা।