বাদুড়িয়ায় শিশু পাচারচক্রের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে হাওড়া জেলা প্রশাসন। ওই ঘটনার পরই হাওড়া শহর ও গ্রামাঞ্চলে প্রশাসনের খাতায় নথিভুক্ত সমস্ত নার্সিংহোম, প্রসূতি কেন্দ্র এবং ডে কেয়ার কেন্দ্রগুলির দৈনন্দিন কার্যকলাপের ওপর নজরদারি করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি সরকারি নথিভুক্ত কেন্দ্রগুলি ছাড়াও নথিভুক্ত নয় এমন কোনও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নার্সিংহোম বা প্রসূতি কেন্দ্র রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির একটি তালিকা তৈরি করে হাওড়া সিটি পুলিশ ও গ্রামীণ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিকে লাইসেন্স দেয় জেলা স্বাস্থ্য দফতর। তাই সেগুলির কাজকর্মের ওপর নজর রাখার কথা তাদেরই। তাই উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় শিশু পাচার চক্রের ঘটনার পরেই কার্যত টনক নড়েছে জেলার স্বাস্থ্যকর্তাদের। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত হাওড়ায় সরকারি নথিভুক্ত নার্সিংহোম রয়েছে ১৫৭টি। প্রসূতি কেন্দ্র রয়েছে ২৪টি, ডে-কেয়ার কেন্দ্র রয়েছে ২৪টি। যদিও জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের ধারণা, এই কেন্দ্রগুলি ছাড়াও সরকারি খাতায় নথিভুক্ত নয় বা লাইসেন্সহীন আরও কিছু অবৈধ বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকতে পারে জেলায়। এই নজরদারির ফলে সেগুলিও হাতেনাতে ধরা পড়বে।
জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, হাওড়ায় স্বাস্থ্য দফতরের অজান্তে এই ধরনের কোনও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গজিয়ে উঠেছে কি না, বা সেগুলিতে কোনও শিশু পাচারচক্র চলছে কিনা সে বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ নেওয়ার জন্যই পুলিশকে বলা হয়েছে। এর জন্য গ্রামে বা শহরে যতগুলি থানা রয়েছে, প্রতিটি থানা এলাকা ধরে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করতেও পুলিশকে বলা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের একাংশের ধারণা, বাদুড়িয়ায় যা পাওয়া গিয়েছে তা আসলে হিমশৈলের চূড়া মাত্র। এর শিকড় অনেক দুর পর্যন্ত বিস্তৃত। হাওড়াতেও যে তার শিকড় ছড়ায়নি, তার নিশ্চয়তা কোথায়! হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভবানী দাস জানান, বাদুড়িয়ার ঘটনার পরই জেলাশাসক শুভাঞ্জন দাস জেলা স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে বৈঠক করে জেলার সমস্ত নার্সিংহোম ও প্রসূতি কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করতে বলেন। সেইমত তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। ওই তালিকা জেলাশাসককে পাঠানোর পর সেখান থেকে চলে যায় হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপারের কাছে। ভবানীবাবু বলেন, ‘‘পুলিশের সাহায্য নিয়ে খুব শীঘ্রই স্বাস্থ্য দফতর অভিযান শুরু করবে। বিশেষ করে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিতে তল্লাশি চালানো হবে।’’
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, পুলিশকে প্রথমেই বালি, সালকিয়া, বাঁকড়া, উলুবেড়িয়ার বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির কাজকর্ম নিয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। কারণ ওই এলাকাগুলিতে এ ধরনের অনেক অবৈধ বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।