—ফাইল চিত্র।
মন্ত্রিসভায় রদবদল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোট ১০ জন মন্ত্রীর পদ বদলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাথমিক ভাবে দু’এক জন নতুন মন্ত্রী নেওয়ার কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত সম্প্রসারণের পথে হাঁটেননি তিনি। এ দিনের রদবদলে দলের পরে সরকারেও প্রভাব বাড়ল শুভেন্দু অধিকারীর। দফতর কেড়ে নেওয়া হয়েছে শান্তিরাম মাহাতো ও বিনয় বর্মণের। তাঁদের দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে রাখা হচ্ছে।
লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরে শনিবার দলের পর্যালোচনা বৈঠকে শুভেন্দুকে জঙ্গলমহলের বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা। সরকারি কর্মীদের দাবিদাওয়া সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর ভারও তাঁকেই দিয়েছেন তিনি। এ বার শুভেন্দুকে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দফতর— সেচ ও জলসম্পদ দেওয়া হল। পরিবহণ দফতর তো রইলই। তবে পরিবেশ দফতর থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার নবান্ন থেকে বেরোনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘খরচ আর বাড়াব না। তাই নতুন কাউকে নিলাম না। কাজের সুবিধার জন্য মাঝে মাঝে তো অদলবদল করতেই হয়।’’
তিনি জানান, সুব্রত মুখোপাধ্যায় দেখবেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন। মলয় ঘটকের হাতে থাকবে আইন ও শ্রম দফতর। মলয় ঘটকের কাছ থেকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর নিয়ে সৌমেন মহাপাত্রকে দেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ দফতরও তিনিই দেখবেন। সৌমেন ঘাটালে দেবের নির্বাচন সামলেছেন। সেখানে বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ পর্যুদস্ত হয়েছেন। সৌমেনবাবুকে তারই পুরস্কার দেওয়া হল বলে মনে করে হচ্ছে।
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের সঙ্গেই এখন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা আদিবাসী উন্নয়ন দফতরও দেখবেন। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর কেড়ে নিয়ে শান্তিরাম মাহাতো ও বন দফতর কেড়ে নিয়ে বিনয় বর্মনকে দফতরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে রাখা হচ্ছে। পুরুলিয়ায় হেরেছে তৃণমূল। জঙ্গলমহলের সব ক’টি আসনেই জিতেছে বিজেপি। তাই শান্তিরামের উপরে এই কোপ বলে অনেকে ধারনা। একই ভাবে জলপাইগুড়িতে তৃণমূলের ‘অপ্রত্যাশিত’ হারের সঙ্গে বিনয় বর্মনের দফতর হারানোর যোগ পাচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘বিনয়ের বন দফতর ব্রাত্য বসুকে দেখতে বলেছি। সুজিত ব্রাত্যর অধীনে বন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবে। শান্তিরাম মাহাতোর হাতে থাকা পশ্চিমাঞ্চল দফতরটি দেখবেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়।’’
বাঁকুড়া আসনে দাঁড়ানোর পর সুব্রত বাবুর থেকে পঞ্চায়েত দফতর নিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সুব্রতবাবুর হাতে পঞ্চায়েত ফিরে এলেও পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থেকে যাচ্ছেন চন্দ্রিমা। সুজিত বসু তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রে পিছিয়ে রয়েছেন। এমনকি নিজের এলাকাতেও সুজিত হেরেছেন বলে দলে গুঞ্জন। এমন অবস্থায় সুজিতের দায়িত্ব আরও বাড়ান কেন হল, তা নিয়েও দলে চর্চা চলছে। আজ, বুধবার সকাল থেকেই নতুন মন্ত্রীদের দায়িত্ব বুঝে নিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।