— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
পর পর বিকট শব্দে কেঁপে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকা। কিছু ক্ষণ বাদেই দেখা গেল লেলিহান শিখা। বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের
সাত সদস্যের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জখম হয়েছেন বেশ কয়েক জন। সোমবার রাতে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য এলাকায়। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। একসঙ্গে আগুন নেবানোর
চেষ্টা করেন গ্রামবাসী এবং পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকা বিকট শব্দ শোনা যায়। তার কিছু ক্ষণ বাদে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান আগুনের গ্রাসে একটি বাড়ি। শুরু হয় হইচই। আগুন নেবানোর চেষ্টার মধ্যে আবার কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। শুরু হয় আগুন নেবানোর কাজ।
সেই সঙ্গে বাড়ির ভিতরে থাকা লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা। যদিও পুলিশের একটি সূত্রে জানা যাচ্ছে, সাত জনের মৃত্যু হয়েছে এই অগ্নিকাণ্ডে। যার মধ্যে চার জনই শিশু। মৃতদের নাম- প্রভাবতী বণিক (৮০), অরবিন্দ বণিক (৬৫), সান্ত্বনা বণিক (২৮), অর্ণব বণিক (৯), অনুষ্কা বণিক (৬), অস্মিতা বণিক (৮ মাস) এবং অঙ্কিত বণিক (৬ মাস)।
আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, বাড়িতে বাজি মজুত করা হয়েছিল। সেখান থেকে এই অগ্নিকাণ্ড। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাসন্তী পুজো উপলক্ষে ওই বাড়িতে বাজি তৈরি করা হচ্ছিল। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ সেখান থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। কিছু ক্ষণের মধ্যে পুরো বাড়িটি আগুনের গ্রাসে চলে যায়। আবার অনেকে বলছেন, রান্নার সিলিন্ডার ফেটে দুর্ঘটনা হয়েছে। তবে পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীরকুমার জানার দাবি, ‘‘বাজি তৈরির সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটেছে। পুরো বাড়িতে আগুন ধরে গিয়েছে। ওই বাড়ির ভিতরে আরও কিছু জন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনাস্থলে ঢোলাহাট থানার বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।’’
পুলিশ অবশ্য এখনই দুর্ঘটনার কারণ নির্দিষ্ট করে বলছে না। আপাতত আগুন নেবানোর চেষ্টার সঙ্গে সঙ্গে চলছে উদ্ধারকাজ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে, আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে।