সোমবার সকালে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছিলেন কোহলি। সেই নিয়েই নিন্দা গাওস্করের। ফাইল ছবি
বিরাট কোহলির অনুপস্থিতিতে তাঁর ঘরে ঢুকে ভিডিয়ো করেছিলেন পার্থের এক হোটেলকর্মী। পরে তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সমাজমাধ্যমে। সেই ঘটনার কড়া নিন্দা করলেন সুনীল গাওস্কর। তাঁর মতে, বাইরে বেরোলেই সর্ব ক্ষণ সমর্থকদের নজরে থাকেন কোহলি। তাই হোটেলের ঘরটাই তাঁর কাছে একমাত্র সুরক্ষিত জায়গা। সেটাও বেআব্রু হয়ে পড়লে আর কিছুই বাকি থাকে না।
গাওস্কর বলেছেন, “আজকালকার দিনে সবার ফোনে ক্যামেরা। তাই সর্বসমক্ষে থাকলে কোনও গোপনীয়তা বজায় থাকে না। কখনও সখনও আপনি গাড়িতে বসে থাকেন, ম্যাচ দেখতে যান বা না যান, একটা ক্যামেরা সর্ব ক্ষণ আপনার দিকে তাক করা থাকবে। তাতে গোপনীয়তা খর্ব হয় কিনা জানি না। তবে হোটেলের ঘরে ঢুকে এ কাজ করলে তো নিশ্চয়ই হয়। সেই গোপনীয়তা আপনার দরকার। যা হয়েছে সেটা কারওর করা উচিত হয়নি। আামি ভিডিয়োটা দেখিনি, তবে ঘটনাটা শুনেছি। একদম ঠিক হয়নি এই কাজ করা।”
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছিলেন কোহলি। সেখানে দেখা গিয়েছিল, কয়েক জন ব্যক্তি কোহলির হোটেলের ঘরে ঢুকে ভিডিয়ো করছেন। ভারতীয় ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত সামগ্রীর ভিডিয়ো তুলছেন তাঁরা। তাঁর জুতো, জামাকাপড়, বিছানা থেকে শুরু করে শৌচাগারেরও ভিডিয়ো করা হয়েছে। সেই সময়ই দেখা যায়, কোট-প্যান্ট পরা তিন জন রয়েছেন কোহলির হোটেলের ঘরে। দেখে মনে হচ্ছিল, হোটেলেরই কর্মী তাঁরা।
এই ভিডিয়ো প্রকাশ করে কোহলি লিখেছিলেন, ‘‘আমি জানি, ভক্তরা সব সময় তাঁদের প্রিয় খেলোয়াড়কে দেখে আনন্দ পান, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। আমি তাকে সম্মান করি। কিন্তু এই ভিডিয়ো দেখে আমি আতঙ্কিত। যদি আমার হোটেলের ঘরেই আমার গোপনীয়তা রক্ষা না হয়, তা হলে কোথায় হবে?’’
এই ঘটনায় তিনি যে চরম বিরক্ত, তা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন কোহলি। লেখেন, ‘‘এই ধরনের ভালবাসা আমি চাই না। এ ভাবে কারও ব্যক্তিগত পরিসরে ঢোকা ঠিক নয়। দয়া করে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন। তাঁদের বিনোদনের পণ্য করে তুলবেন না।’’
কোহলির এই ভিডিয়ো প্রকাশ হওয়ার পরেই ক্রিকেটবিশ্বে তোলপাড় পড়ে যায়। তার পরেই পার্থের ওই হোটেলের তরফে দুঃখপ্রকাশ করে জানানো হয়, এ ধরনের আচরণ তারা কোনওমতেই বরদাস্ত করবে না। যে কর্মীরা দোষী তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ভিডিয়োটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সমাজমাধ্যম থেকে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট দল এবং আইসিসির তদন্তে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করতে তৈরি তারা।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে ঘটনাটিকে অত্যন্ত হতাশজনক বলে মন্তব্য করেন দ্রাবিড়। ভারতীয় দলের প্রধান কোচ বলেন, ‘‘হোটেলের ঘরেই ক্রিকেটাররা সব থেকে নিরাপদে থাকে। কারও ব্যক্তিগত পরিসর বিঘ্নিত হওয়া কাম্য নয়। এই ধরনের অনুভূতি মোটেও সুখকর নয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘শুধু কোহলি নয়, এই ধরনের ঘটনা সকলের জন্যই অস্বস্তিকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আমরা জানিয়েছি। তাঁরা ব্যবস্থা নিয়েছেন। আশা করব ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না। সকলে আরও সতর্ক থাকবে। হোটেলের ঘরই একমাত্র জায়গা, যেখানে ক্রিকেটাররা মানুষের চোখের আড়ালে থাকে। সংবাদমাধ্যমের থেকে দূরে থাকতে পারে। ক্যামেরার আড়ালে থাকতে পারে। হোটেলের ঘরে সকলে নিজের মতো থাকে। সেটা প্রকাশ্যে আনা হলে অনুভূতি কখনওই ভাল হয় না।’’
ভারতীয় দল সূত্রে খবর, ম্যানেজমেন্ট কোহলির কাছে জানতে চেয়েছিল, তিনি কোনও অভিযোগ দায়ের করতে চান কি না। উত্তরে কোহলি জানিয়েছেন, তিনি চান না। আসলে এই ঘটনা নিয়ে বেশি জলঘোলা করতে আর চাইছেন না ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক।