আউট হয়ে ফিরছেন ঋষভ পন্থ (নীল জার্সিতে)। পিছনে উল্লাস পঞ্জাবের ক্রিকেটারদের। ছবি: পিটিআই।
আরও এক বার ব্যর্থ ঋষভ পন্থ। আরও এক বার দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলে আউট হলেন তিনি। দু’উইকেট পড়ার পর ব্যাট করতে নেমে যেখানে অধিনায়ক হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে তাঁর খেলা উচিত, তার ঠিক উল্টো করলেন পন্থ। বাজে শট খেলে আউট হলেন। তিনি আউট হওয়ায় সমস্যায় পড়ল লখনউ সুপার জায়ান্টসের ব্যাটিং। ভাল বল করলেন পঞ্জাব কিংসের বোলারেরা। নিকোলাস পুরান, আয়ুষ বাদোনি ও আব্দুল সামাদের ব্যাটে শ্রেয়স আয়ারদের সামনে ১৭২ রানের লক্ষ্য দিল লখনউ।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব খারাপ হয় লখনউয়ের। গত দুই ম্যাচে রান করা মিচেল মার্শকে প্রথম ওভারেই আউট করেন অর্শদীপ সিংহ। শূন্য রানে ফেরেন তিনি। প্রথম ধাক্কার পর অবশ্য জুটি বাঁধেন এডেন মার্করাম ও নিকোলাস পুরান। দ্রুত রান করছিলেন তাঁরা। ভাল দেখাচ্ছিল মার্করামকে। কিন্তু ২৮ রান করে লকি ফার্গুসনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
দু’উইকেট পড়ার পর জুটি বাঁধা উচিত ছিল পন্থ ও পুরানের। পন্থ নামার পরেই স্পিনারদের আক্রমণে নিয়ে আসেন শ্রেয়স। পরিকল্পনা কাজে লাগে পঞ্জাবের অধিনায়কের। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বল পিছনের দিকে মারতে গিয়ে সরাসরি যুজবেন্দ্র চহলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লখনউয়ের অধিনায়ক। ২ রান করেন তিনি। পন্থের চোখমুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কতটা চাপে রয়েছেন তিনি। হয়তো ২৭ কোটি টাকা প্রভাব ফেলেছে তাঁর খেলায়। কিন্তু যে ভাবে একের পর এক ম্যাচে তিনি আউট হচ্ছেন, তাতে এই চাপ বাড়বে বই কমবে না।
লখনউয়ের ইনিংস টানলেন পুরান ও আয়ুষ বাদোনি। পুরানকে দেখে মনে হচ্ছিল, আগের ম্যাচের ছন্দেই নেমেছেন তিনি। দ্রুত রান করছিলেন। বিশেষ করে চহলের বলে অনেক রান নেন তিনি। সেই চহলই অবশ্য পুরানকে আউট করেন। ৪৪ রান করেন তিনি। বাউন্ডারিতে ক্যাচ ধরেন ম্যাক্সওয়েল। লখনউয়ের মাঠ বড়। অন্য কোনও মাঠ হলে পুরানের সেই শট দর্শকদের মধ্যে গিয়ে পড়ত। এই ম্যাচে রান পাননি লখনউয়ের আর এক বিদেশি ডেভিড মিলার। ১৯ রান করে ফেরেন তিনি।
যখন দেখে মনে হচ্ছিল, ১৫০ রান করতে সমস্যায় পড়বে লখনউ, তখনই হাত খোলা শুরু করলেন বাদোনি। তাঁকে সঙ্গ দিলেন আব্দুল সামাদ। জম্মু-কাশ্মীরের এই ব্যাটার প্রথম বলেই ছক্কা মেরে ইনিংস শুরু করেন। ডেথ ওভারে বড় শট মারতে থাকেন তাঁরা। অর্শদীপের এক ওভারে আসে ২০ রান। তবে ইনিংসের শেষ ওভারে ভাল করেন অর্শদীপ। মাত্র ৭ রান দেন তিনি। জোড়া উইকেট তুলে নেন। নইলে ১৮০ রানের বেশি হত লখনউয়ের।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান করে লখনউ। বাদোনি ৪১ রান করে আউট হন। সামাদ ১২ বলে ২৭ রান করেন। তবে লখনউয়ের এই উইকেটে বোলারদের জন্যও কিছুটা সুবিধা রয়েছে। ফলে আইপিএলের বেশির ভাগ ম্যাচের মতো পঞ্জাব যে সহজেই রান তাড়া করে নেবে, তা বলা যাবে না। এখন দেখার দ্বিতীয় ইনিংসে কোন দল বাজিমাত করে।