আইপিএলে প্রথম ম্যাচেই নজরে অনেক তারকা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আইপিএলের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। শনিবার কলকাতা বনাম বেঙ্গালুরু ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে এ বারের প্রতিযোগিতা। প্রতি বছরের মতো এ বারও আইপিএল নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। কলকাতার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেশি। কারণ ১০ বছর পর উদ্বোধনী ম্যাচ হচ্ছে কলকাতায়।
কলকাতা বনাম বেঙ্গালুরু মানেই উচ্চ মানের লড়াই। প্রতি বছরই এই দুই দলের ম্যাচে অনেক উত্তেজক মুহূর্ত তৈরি হয়। এ বারও তার ব্যতিক্রম হবে না। দুই দলই জিতে শুরু করতে মরিয়া। শনিবারের ম্যাচে পাঁচ ব্যক্তিগত দ্বৈরথ তুলে ধরল আনন্দবাজার ডট কম, যে দিকে সবার চোখ থাকবে।
১) বিরাট কোহলি বনাম হর্ষিত রানা
গত বছর ইডেনে এই দুই ক্রিকেটারের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। আরসিবি-র ইনিংসের শুরুর দিকে হর্ষিতের বলে একটি রান নিয়ে উড়ন্ত চুমুর (ফ্লাইং কিস) ইঙ্গিত করেছিলেন কোহলি। তার আগে হায়দরাবাদ ম্যাচে মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে আউট করে উড়ন্ত চুমু দিয়ে নির্বাসিত হয়েছিলেন হর্ষিত। কোহলি সেটাই মনে করিয়ে দেন। সেই হর্ষিতের বলেই আউট হন কোহলি। কোমরসমান উচ্চতায় হর্ষিতের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দেন। আম্পায়ার আউট দিলে ‘নো বল’-এর আবেদন করেন কোহলি। তা নাকচ হয়ে যায়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হর্ষিতের বিরুদ্ধে ১৭ বলে ২৩ রান করেছেন কোহলি। আউট হয়েছেন ওই এক বারই।
২) ফিল সল্ট বনাম অনরিখ নোখিয়া
গত বার কেকেআরে ছিলেন সল্ট। ফলে বিপক্ষের অনেক ক্রিকেটারকেই চেনেন। কোহলির সঙ্গে তাঁরই ওপেন করার কথা। সে ক্ষেত্রে শুরুতে খেলতে হতে পারে নোখিয়ার বলে। টি-টোয়েন্টিতে নোখিয়ার বিরুদ্ধে ২ বলে ৫ রান করেছেন সল্ট। এক বারও আউট হননি। অনেক সময়ই নোখিয়া অনিয়ন্ত্রিত বল করেন। শনিবার তা করলে সল্টকে থামানো যাবে না। অন্য দিকে, নোখিয়া বলে গতির হেরফের ঘটিয়ে সল্টকে ফেরত পাঠাতে পারেন।
৩) রিঙ্কু সিংহ বনাম যশ দয়াল
সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথ। তিন বছর আগে গুজরাতের হয়ে খেলার সময় দয়ালকে শেষ ওভারে পাঁচটি ছক্কা মেরে কেকেআরকে জিতিয়েছিলেন রিঙ্কু। সেই ইনিংস রাতারাতি এই ব্যাটারকে আলোয় এনে দিয়েছিল। তার পর থেকে রিঙ্কুর শুধুই উত্থান হয়েছে। দয়াল গত বছর থেকেই দল বদলে বেঙ্গালুরুতে। তাঁকে মহানিলামে ধরেও রাখা হয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সব মিলিয়ে দয়ালের ১১ বলে ৩৭ রান করেছেন রিঙ্কু। আউট হয়েছেন এক বার।
৪) টিম ডেভিড বনাম আন্দ্রে রাসেল
দু’জনেই অলরাউন্ডার। তাই ব্যাটে-বলে একাধিক বার দ্বৈরথ দেখা যেতে পারে। দেশ-বিদেশের লিগে খেলার ফলে বহু বার দু’জনে মুখোমুখি হয়েছেন। রাসেলের ৩২ বলে ৬৫ রান নিয়েছেন ডেভিড। আটটি চার এবং তিনটি ছয় মেরেছেন। আউট হয়েছেন দু’বার। ডেভিড বিধ্বংসী ছন্দে থাকলে তাঁকে থামানো মুশকিল। সে ক্ষেত্রে রাসেলকে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করতেই হবে।
৫) সুনীল নারাইন বনাম ভুবনেশ্বর কুমার
কেকেআরের হয়ে এ বারও ওপেন করতে পারেন নারাইন। সামলাতে হবে ভুবনেশ্বরকে। আইপিএলে বিভিন্ন দলে খেলার সুবাদে ভুবনেশ্বরের সঙ্গে অনেক বার দেখা হয়েছে নারাইনের। যদিও ব্যাটার নারাইনের রেকর্ড মোটেই ভাল নয়। ২৮ বলে মাত্র ৩১ রান করেছেন ভুবনেশ্বরের বিরুদ্ধে। দু’বার আউট হয়েছেন। ১৫টি ডট বল খেলেছেন। স্লোয়ার বল করে নারাইনের রান তোলার গতিকে আটকে রাখতে পারেন ভুবনেশ্বর। নারাইনকে যথেষ্ট বুঝেশুনে খেলতে হবে।