অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সঙ্গে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। ছবি: রয়টার্স।
আইপিএলের দুই সফলতম দলের লড়াই। পাঁচ বার করে আইপিএল জিতেছে দুই দলই। চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সম্মানের লড়াইয়ে শেষ হাসি মহেন্দ্র সিংহ ধোনিদের মুখে। চেন্নাইয়ের স্পিনারদের দাপটে মুম্বই আটকে যায় ১৫৫ রানে। শেষবেলায় চেন্নাই সুপার কিংসের প্রাক্তন দীপক চহর রান না করলেও আরও কমেই শেষ হয়ে যেতে পারত তারা। সেই রান তাড়া করতে নেমে ধোনির দল জিতল ৪ উইকেটে।
টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চেন্নাইয়ের অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। চিপকের পিচ বরাবর স্পিনারদের জন্য সুখের রাজ্য। সেখানে রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাডেজা, নুর আহমেদ এবং রাচিন রবীন্দ্রের মতো চার জন দলে থাকায় বিপক্ষকে স্পিনের ফাঁদে আটকে রাখাই ছিল মূল পরিকল্পনা। যা কাজে লাগে খুব ভাল ভাবেই। আফগানিস্তানের স্পিনার নুর একাই চার উইকেট তুলে নেন। তাঁর মতো বাঁহাতি স্পিনারকে সামলানোর কাজটা সহজ ছিল না। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন নুর। অশ্বিন নেন একটি উইকেট। তিনি ওভারে দেন ৩১ রান। পেসার নাথান এলিস একটি উইকেট নেন। উইকেট পাননি জাডেজা। তিনি ৩ ওভারে ২১ রান দেন।
স্পিনারের দাপটের মাঝেই তিন উইকেট নেন পেসার খলিল আহমেদ। বাঁহাতি পেসারকে দলে নিয়েছে চেন্নাই। তিনিই প্রথম ওভারে রোহিত শর্মাকে আউট করেন। মুম্বইয়ের উইকেট পরার সেই শুরু। মুম্বইয়ের অন্য ওপেনার রায়ান রিকেলটনকেও আউট করেন খলিল। ইনিংসের শেষ বলে আউট করেন ট্রেন্ট বোল্টকে। স্পিনারদের সাফল্যের মাঝে অভিজ্ঞ পেসার খলিল দলের হয়ে উইকেট নেওয়ার শুরু এবং শেষটা করেন। মাঝের ওভারে নুর, অশ্বিনেরা বিপক্ষের উইকেট তুললেন।
মুম্বইয়ের হয়ে কোনও ব্যাটার সে ভাবে দাপট দেখাতে পারেননি। প্রথম ওভারে রোহিত আউট হওয়ার পর বেশি ক্ষণ টিকতে পারেননি রিকেলটনও। মাত্র ১৩ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। উইল জ্যাকস তিন নম্বরে নেমে ১১ রানের বেশি করতে পারেননি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ২৯ রান করলেও খেলেন ২৬টি বল। তাঁকে আউট করেন উইকেটরক্ষক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি।
মুম্বইয়ের ইনিংসের ১১তম ওভারে বল করছিলেন নুর আহমেদ। আফগানিস্তানের স্পিনারের বলে ক্রিজ় ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়েছিলেন সূর্য। কিন্তু তিনি বলের নাগাল পাননি। উইকেটের পিছনে তৈরি ছিলেন ধোনি। বল হাতে আসার মাত্র ০.১২ সেকেন্ডের মধ্যে ভেঙে দেন উইকেট। যে সময় ধোনি স্টাম্প করেন, তত ক্ষণে সূর্যের ব্যাট স্পিন শেষ হয়নি। পা ক্রিজ়ে ঢোকানো তো অনেক দূর।
মুম্বই হারলেও চর্চায় থেকে যাবেন ভিগ্নেশ পুথুর। কেরলের ২৪ বছরের তরুণ স্পিনার নিজের রাজ্যের হয়ে মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন। কিন্তু এ বারের আইপিএলে মুম্বইয়ের হয়ে প্রথম ম্যাচেই ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিলেন। আউট করলেন রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৫৩), শিবম দুবে (৯) এবং দীপক হুডাকে (৩)। মুম্বই মোট ১৪ ওভার স্পিনারদের ব্যবহার করে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ভিগ্নেশই।
চেন্নাইয়ের ইনিংসে সবচেয়ে পরিণতবোধটা দেখালেন রাচিন রবীন্দ্র। শেষ পর্যন্ত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। দুর্ভাগ্য রান আউট হয়ে যান মাত্র চার রান বাকি থাকতে। তবে রাচিন আউট না হলে রবিবার চিপকে ধোনিকে ব্যাট করতে নামতে দেখা হত না দর্শকদের। ব্যাট হাতে যদিও কোনও রান করতে পারেননি ধোনি। উল্টো দিকে থাকা রবীন্দ্র জাডেজা (১৮ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত) ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতান।