Marichyasana Banefits

ফ্রোজ়েন শোল্ডারের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন? নিয়মিত অভ্যাস করুন মারীচ্যাসন, শিখে নিন পদ্ধতি

সংস্কৃতে ‘মরীচি’ শব্দের অর্থ ‘আলোকরশ্মি’। অনেকের ধারণা, সেখান থেকে এই ভঙ্গির নাম হয়েছে মারীচ্যাসন। মতান্তরে, পুরাণে উল্লিখিত মরীচি নামের এক ঋষির নামানুসারে এই ভঙ্গির নামকরণ করা হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৫ ০৮:৫৬
Share:
Marichyasana

কী ভাবে করবেন মারীচ্যাসন? চিত্রাঙ্কন: শৌভিক দেবনাথ।

একটানা চেয়ারে বসে কাজ করতে হয়। সেখান থেকে পিঠ, কোমরে ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু মুশকিল হল, সেই ব্যথা এখন ঘাড়, কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, হাত তোলারও ক্ষমতা নেই। উঁচু থেকে কিছু টেনে নামাতে গেলেও প্রবল কষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে এই ধরনের সমস্যা ‘ফ্রোজ়েন শোল্ডার’ নামে বেশি পরিচিত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে ‘অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস’ বলা হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে ঘাড়, কাঁধের পেশি এবং অস্থিসন্ধির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়। ব্যথা বশে রাখতে শেষমেশ ওষুধের উপরেই ভরসা করতে হয়।

Advertisement

তবে যোগ প্রশিক্ষেকেরা বলছেন, অবস্থা যদি গুরুতর না হয় তা হলে এক আসনেই এই মুশকিল আসান হতে পারে। নিয়মিত মারীচ্যাসন অভ্যাস করলে এই সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। সংস্কৃতে ‘মরীচি’ শব্দের অর্থ ‘আলোকরশ্মি’। অনেকের ধারণা, সেখান থেকে এই ভঙ্গির নাম হয়েছে মারীচ্যাসন। মতান্তরে, পুরাণে উল্লিখিত মরীচি নামক এক ঋষির নামানুসারে এই ভঙ্গির নামকরণ করা হয়। শিখে নিন মারীচ্যাসন করার পদ্ধতি।

কী ভাবে করবেন?

Advertisement

প্রথমে ম্যাটের উপর কোমর টান টান করে বসুন। দু’টি পা সামনের দিকে ছড়িয়ে দিন। পিঠ একদম সোজা রাখবেন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।

এ বার প্রথমে ডান হাঁটু ভাঁজ করে বাঁ হাটুর কাছে টেনে আনুন। তার পর বাঁ হাটুর উপর দিয়ে ডান পায়ের পাতা ‘ক্রস’ করে নিয়ে যান। পায়ের পাতা রাখার অবস্থান কিন্তু বদলাবে না। প্রথমে ডান হাঁটুর এক পাশে ছিল। এ বার শুধু পাশ বদলাবে।

বাঁ হাঁটু ভাঁজ করে রাখতে পারেন। না হলে সামনের দিকে ছড়িয়ে রাখা যায়।

এ বার কোমরে মোচড় দিয়ে শরীরের উপরের অংশটিকে ডান দিকে ঘোরান। মাথা, কাঁধও ঘুরবে।

বাঁ কনুই ভাঁজ করে ডান হাঁটুর সঙ্গে আটকে রাখুন। যে দিকে ঘুরে বসলেন, ডান হাতটিও সে দিকে থাকবে। হাতের তালু মাটি স্পর্শ করে থাকবে। দেহের ভারসাম্য রাখার জন্য ঠেস দেওয়ার কাজ করবে ডান হাতটি।

এই ভঙ্গি ধরে রাখুন ৩০ সেকেন্ড। চাইলে এক মিনিট পর্যন্ত থাকা যায়। তার পর একই ভাবে অন্য পায়েও ধাপে ধাপে এই ভঙ্গি অভ্যাস করুন।

কেন করবেন?

নিয়মিত মারীচ্যাসন অভ্যাসে হজম সংক্রান্ত গোলমাল দূর হয়। শরীরে জমা দূষিত পদার্থ বার করে দিতে সাহায্য করে এই আসন। পিঠ, কোমর এবং কাঁধের পেশির নমনীয়তা বজায় রাখে। তলপেটের পেশি মজবুত করে। রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। মহিলাদের ঋতুস্রাবজনিত অস্বস্তি কাটাতেও সাহায্য করে। তবে শুধু শরীর নয়, মনেরও খেয়াল রাখে মারীচ্যাসন। মনঃসংযোগ বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

সতর্কতা:

কোমরে, পায়ে কিংবা হাঁটুতে ব্যথা-বেদনা থাকলে এই আসন না করাই ভাল। ভার্টিগো বা মাথা ঘোরার সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। মেরুদণ্ডে চোট থাকলে তা পুরোপুরি নিরাময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তার পর চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে যোগাসন করবেন। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই আসন অভ্যাস করতে যাবেন না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement