লক্ষ্যে অবিচল থাকতে গেলে কী করতে হবে? ছবি: সংগৃহীত।
কম্পিউটারের সুইচ দিয়ে অনেক ক্ষণ বসে রয়েছেন। কিন্তু কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। অথচ অনেক কাজ। একবার মনে হচ্ছে, সহজ কাজগুলো আগে করে ফেলা যাক। পরমুহূর্তে ভাবছেন, কঠিন কাজ ফেলে রেখে লাভ নেই। কোন কাজটি থেকে শুরু করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। মনোবিদেরা বলছেন, এমন সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে মনঃসংযোগের অভাব। মনকে শান্ত করে একটি জায়গায় কেন্দ্রীভূত করা সহজ কথা নয়। তবে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হলে এই অভ্যাস রপ্ত করতে হবে। কিন্তু কী ভাবে?
১) কোন কাজের গুরুত্ব কেমন:
ঘরে-বাইরে নানা ধরনের কাজ। হাজারো সমস্যা। সব আপনাকেই সামাল দিতে হবে। কোন কাজটি কখন করবেন, কী ভাবে করবেন, তা কাজের গুরুত্ব বুঝে নির্বাচন করতে হবে। আগে থেকে পরিকল্পনা করা থাকলে, গোটা বিষয়টি সম্পন্ন করা আরও সহজ হয়।
২) অনেক কাজ একসঙ্গে করবেন না:
একসঙ্গে দু’টি বা তার অধিক কাজ করতে পারলে হয়তো অনেকটা সময় বাঁচানো যায়। কিন্তু তাতে কাজের মান ভাল না-ও হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের পরামর্শ হল, কাজের ধরন, গুরুত্ব অনুযায়ী সময় ভাগ করে নেওয়া। একটি কাজে মনোনিবেশ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা শেষ করে ফেলতে পারলে আরও ভাল।
৩) কাজের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ:
এক দিকে মোবাইলে ঘন ঘন নোটিফিকেশন আসছে। অন্য দিকে মেলবক্সে একের পর এক মেল ঢুকছে। পাশে বসা সহকর্মীরা একে অপরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ‘চায়ে-পে-চর্চা’ চালিয়ে যাচ্ছেন। কাজের পরিবেশ এমন হলে মনোনিবেশ করা সত্যিই মুশকিল। আশপাশের কোলাহল থেকে নিজেকে সরিয়ে এনে কাজে মন দেওয়ার অভ্যাস রপ্ত করতে হবে। মোবাইল, সমাজমাধ্যমের হাতছানি এড়িয়ে চলতে পারলেও ভাল হয়।
৪) কাজের মাঝে বিরতি নিন:
সকাল থেকে ঘাড় গুঁজে কাজ করেই চলেছেন, কিন্তু কাজ কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। যদিও বা কোনও রকমে শেষ করলেন, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। মনোবিদেরা বলছেন, কাজের মান এবং নিজের ভাল থাকা— দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটানা কাজ না করে কাজের মাঝে ছোট ছোট বিরতি নেওয়া প্রয়োজন। তাতে একাগ্রতাও বাড়ে।
৫) পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি:
পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে মস্তিষ্ক কিন্তু সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। কাজে মন দিতেও সমস্যা হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরে এমন চলতে থাকলে কিন্তু স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।