রাতভর জলে ভিজিয়ে রাখা কালো রঙের মাসকলাইয়ের ডাল সকালে হাতে রগড়ে ধোয়ার সময় রং পাল্টে হালকা সবুজ হয়ে যাচ্ছে! ছবি : শাটারস্টক।
বাংলায় যে বিউলির ডাল বা কলাইয়ের ডাল আলুপোস্তের সঙ্গে জমিয়ে খাওয়া হয়, সেই ডালই কালো খোসা সমেত খাওয়া হয় উত্তর ভারতে। তা দিয়ে রান্না করা হয় জনপ্রিয় খাবার দাল মাখনি। কলো খোসা সমেত ওই বিউলির ডালকে উত্তর ভারতে বলা হয় 'কালি দাল' বা 'মা কি দাল'। বাংলায় সেই ডাল পরিচিত মাসকলাই নামে। সম্প্রতি সেই মাসকলাইয়েই ভেজাল মেশানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে সমাজমাধ্যমে। একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে রাতভর জলে ভিজিয়ে রাখা কালো রঙের মাসকলাইয়ের ডাল সকালে হাতে রগড়ে ধোয়ার সময় রং পাল্টে হালকা সবুজ হয়ে যাচ্ছে!
যে ডাল ভারতীয়দের নিত্য ভোজ্য, তাতে ভেজাল মেশানোর প্রমাণ পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই। ভিডিয়োটি পোস্ট করেছিলেন এক সাংবাদিক। তা দেখার পরে নেটাগরিকদের কেউ কেউ লিখেছেন, ‘‘দুর্নীতিবাজদের দৌলতে কি সামান্য ডাল-ভাতও নিশ্চিন্তে খাওয়ার উপায় থাকবে না?’’ স্বাস্থ্য সচেতনেরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘রং মেশানো ওই ডাল শরীরে গেলে তো মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে! শিশুরাও যে ডাল খায়, তার নিরাপত্তা নিয়ে ওই ব্যবসায়ীরা এক বারও ভাববে না?’’
ভেজাল ডালের ভিডিয়োর সেই দৃশ্য। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
ঠিক কতটা ক্ষতি হতে পারে রং মেশানো ভেজাল ডাল খেলে?
রং মানে রাসায়নিক। সেই রাসায়নিক খাবারের সঙ্গে মিশে পেটে যাওয়া মানে ক্ষতি অবধারিত বলে মনে করেন পুষ্টিবিদ এবং যাপন প্রশিক্ষক ঈশা লাল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন খাবারের সঙ্গে কৃত্রিম রং শরীরে গেলে কী কী ক্ষতি হতে পারে।
১। লিভার এবং কিডনির ক্ষতি: কৃত্রিম রঙে অধিকাংশ সময়েই সীসা অথবা আর্সেনিক থাকে। যা শরীরের জন্য বিষাক্ত। স্বাভাবিক ভাবেই শরীরকে সেই বিষমুক্ত করতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয় লিভারকে। যা থেকে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গবেষণায় এ-ও দেখা গিয়েছে যে, দীর্ঘ দিন ধরে ওই ধরনের রং দেওয়া খাবার শরীরে গেলে লিভার দূষিত হওয়ার পাশাপাশি কিডনি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়।
২। অন্ত্রের সমস্যা: কৃত্রিম রং পাকস্থলীর দেওয়ালের ক্ষতি করতে পারে। যা থেকে গা গুলনো, পেট ফাঁপা, বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩। ক্যানসারের ঝুঁকি: কৃত্রিম রংকে কার্সিনোজেন তালিকাভুক্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ফুড গ্রেড রং বলে যে টারট্রাজ়াইন খাবারে মেশানো হয়, তা থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।
কেউ কেউ লিখেছেন, ‘‘দুর্নীতিবাজদের দৌলতে কি সামান্য ডাল-ভাতও নিশ্চিন্তে খাওয়ার উপায় থাকবে না?’’ ছবি: সংগৃহীত।
ডাল খাঁটি না ভেজাল, তা বুঝবেন কী ভাবে?
দোকান থেকে দাম দিয়ে যে ডাল কিনে আনছেন, তা ভাল না ভেজাল বোঝার জন্য ডাল রান্নার আগে কয়েকটি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
১। জলে ভিজিয়ে: এক মুঠো ডাল এক বাটি জলে মিনিট ২০ ভিজিয়ে রাখুন। যদি জলের রং কালচে হয়ে যায় অথবা জলের পাত্রের নীচে থকথকে পদার্থ জমে, তবে বুঝতে হবে ডালে ভেজাল রয়েছে। খাঁটি ডালে বড় জোর জল সামান্য ঘোলাটে হবে।
২। হাতে ঘষে: কয়েকটি ডাল হাতের তালুতে নিয়ে ভাল করে ঘষে পরীক্ষা করুন। যদি হাতে রং লাগে তবে বুঝবেন, ডালে ভেজাল রয়েছে।
৩। দেখতে কেমন: খাঁটি ডালের রং এক ধরনের হবে না। খুব বেশি তেলতেলেও হবে না। যদি দেখেন সব ডালের রং সমান এবং তা চকচক করছে, তবে বুঝতে হবে কোথাও গোলমাল রয়েছে।