পঙ্গু রোগীও উঠে হাঁটবেন, কী চিকিৎসা শুরু করছে জাপান? ফাইল চিত্র।
শরীরের যে অংশে পক্ষাঘাত হয়েছে, সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুর কোষগুলিকে যদি সুস্থ-সবল কোষ দিয়ে বদলে ফেলা যায়, তা হলে কেমন হয়? এই পদ্ধতি যদি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়, তা হলে পক্ষাঘাতও সারিয়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সুস্থ কোষ দিয়ে বদলে ফেলার ভাবনা অলীক বলেই মনে হবে। কারণ, তা করা তো প্রায় অসম্ভব। এই অসম্ভব কাজটিকেই সম্ভব করে দেখাচ্ছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। দাবি করা হয়েছে, তাঁরা এমন থেরাপি প্রয়োগ করছেন যাতে হুইলচেয়ারে বসা পক্ষাঘাতে পঙ্গু রোগীও উঠে দিব্যি হাঁটাচলা করতে পারবেন।
‘নেচার’ সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার খবর প্রকাশিত হয়েছে। টোকিওর কিয়ো ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা গবেষণাটি করছেন। গবেষক হিদেউকি ওকানো জানিয়েছেন, স্টেম কোষ থেরাপিতেই এমন অসাধ্যসাধন করা সম্ভব। স্টেম কোষ হল শরীরের এমন এক কোষ, যা থেকে অন্যান্য বহুবিধ কোষ তৈরি করা সম্ভব। অস্থি, তরুণাস্থি থেকে শুরু করে রক্ত এবং লসিকা সংবহনতন্ত্র গঠনে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কোষগুলির রূপান্তর ঘটানো সম্ভব। স্টেম কোষের উৎস অনেক। সন্তান জন্মানোর পর মায়ের শরীর থেকে যে প্ল্যাসেন্টা বা অমরা বেরিয়ে আসে, তার মধ্যে থাকে স্টেম কোষ, যাকে ‘এমব্রায়োনিক স্টেম সেল’ বলে। আবার মজ্জা থেকেও স্টেম কোষ তৈরি হয়। এই কোষগুলিকে অন্য যে কোনও কোষে বদলে দেওয়া যেতে পারে। যেমন, মজ্জা থেকে নেওয়া স্টেম কোষকে স্নায়ুর কোষে বদলে দেওয়া সম্ভব। আবার এর থেকে হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্কের কোষও তৈরি করা যায়। এই রূপান্তরের প্রক্রিয়াকেই কাজে লাগাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষক ওকানো জানাচ্ছেন, দাতার শরীর থেকে নেওয়া সুস্থ স্টেম কোষকে গবেষণাগারে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে যার নাম ‘ইনডিউসড প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল’ (আইপিএস)। এই আইপিএস কোষকে যে কোনও কোষে বদলে দেওয়া সম্ভব। গবেষকেরা, প্রথমে দাতার শরীর থেকে নেওয়া কোষকে আইপিএসে বদলাচ্ছেন, তার পরে সেটি থেকে স্নায়ুর কোষ তৈরি করছেন। রূপান্তরিত সেই সব কোষকে পক্ষাঘাতে পঙ্গু রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। পক্ষাঘাতে পঙ্গু এমন চার জন রোগীর শরীরে দুই থেকে আড়াই লাখ আইপিএস কোষ প্রতিস্থাপন করে দেখা গিয়েছে, তাঁরা ধীরে ধীরে হাঁটাচলার ক্ষমতা অর্জন করছেন। আর এই প্রক্রিয়ার কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।
স্টেম কোষ থেরাপিতে পক্ষাঘাতে পঙ্গু সব রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব কি না, সে নিয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, স্নায়ুর জটিল রোগে আক্রান্ত, অথবা দুর্ঘটনার কারণে বা হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের কারণে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের উপর পরীক্ষাটি করে দেখা হচ্ছে। বহু জনের শরীরে যদি এই থেরাপি সঠিক ভাবে কাজ করে, তা হলেই এই থেরাপির প্রয়োগ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।