(বাঁ দিকে) বিচারপতি যশবন্ত বর্মা। উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কাদের সঙ্গে কথা বলতেন বিচারপতি যশবন্ত বর্মা? এ বার সেই তথ্য খতিয়ে দেখতে চায় সুপ্রিম কোর্টের গঠিত কমিটি। শুধু তা-ই নয়, দমকলবাহিনীর কর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চায় তারা। অন্য দিকে, উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় বুধবারই সর্বদল বৈঠক ডাকলেন। বিচারপতি বর্মার বাসভবন থেকে উদ্ধার হওয়া নগদের বিষয় নিয়েই আলোচনার জন্য ডাকা হল এই বৈঠক।
গত ১৫ মার্চ, অর্থাৎ হোলির দিন বিচারপতি বর্মার বাংলোয় আগুন লেগে গিয়েছিল। পরিবারের সদস্যেরাই দমকল ডেকেছিলেন। দমকলকর্মীরা বাংলোয় আগুন নেবাতে গিয়ে রাশি রাশি নগদ টাকা দেখতে পান বলে দাবি। তাঁদের কাছ থেকে পুলিশ খবর পায়। তারা গিয়ে টাকা উদ্ধার করে। ওই দিন আগুনের খবর পেয়ে কোন দমকলকর্মীরা প্রথম বিচারপতির বাড়িতে পৌঁছেছেন, সেখানে গিয়ে তাঁরা কী কী দেখেছেন— সব কিছু জানতে চায় সুপ্রিম কোর্টের কমিটি।
বিচারপতি বর্মার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত শনিবার তিন বিচারপতির কমিটি গঠন করেন দেশের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না। এই কমিটিতে রয়েছেন পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি শীল নাগু, হিমাচল প্রদেশ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জিএস সান্ধাওয়ালিয়া এবং কর্নাটক হাই কোর্টের বিচারপতি অনু শিবরমন। সূত্রের খবর, শীঘ্রই দিল্লিতে তারা অনুসন্ধান শুরু করবে। জানা যাচ্ছে, ওই কমিটি বিচারপতি বর্মার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও চাইতে পারে। সেই সঙ্গে দমকলবাহিনীর কর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন কমিটির সদস্যেরা। পাশাপাশি, বিচারপতি বর্মার কল রেকর্ড ফরেন্সিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হবে।
অন্য দিকে, বিচারপতি বর্মার বাসভবন থেকে নগদ উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসলেন ধনখড়। তিনি জানান, বিষয়টি খুবই ‘গুরুতর’। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় ধনখড় বলেন, ‘‘বিচারপতি বর্মার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আমি মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের বৈঠকে ডেকেছি।’’ উল্লেখ্য, বিচারপতি বর্মার বিষয় নিয়ে রাজ্যসভার দলনেতা তথা বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডা ও বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ধনখড়। সেই বৈঠকের পরই তিনি জানিয়েছিলেন, নড্ডা ও খড়্গের পরামর্শমতো সব দলনেতাকে বৈঠক ডাকবেন। বুধবার সেই বৈঠক হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, সোমবার সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি বর্মাকে দিল্লি হাই কোর্ট থেকে ইলাহাবাদ হাই কোর্টে বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সুপ্রিম কোর্টের তরফে বিচারপতি বর্মার বদলির সুপারিশ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়। কেন্দ্রের সবুজ সঙ্কেত মিললেই বদলির বিষয়টি সম্পন্ন হবে। তবে তাঁর বদলির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইলাহাবাদ হাই কোর্টের আইনজীবীরা। হাই কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অনিল তিওয়ারি বলেন, ‘‘ভারতের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, বিচারপতি বর্মাকে যেন ইলাহাবাদ হাই কোর্ট বা অন্য কোনও আদালতে বদলি করা না হয়। কারণ, কোনও আদালতই আবর্জনার স্তূপ নয়।’’ একই সঙ্গে তাঁরা অনির্দিষ্ট কালের জন্য কর্মবিরতিরও ডাক দিয়েছেন।