(বাঁ দিকে) একনাথ শিন্দে। কুণাল কামরা (ডান দিকে)। —ফাইল ছবি।
মহারাষ্ট্রের কৌতুক-বিতর্কে এ বার মুখ খুললেন সে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনার প্রধান একনাথ শিন্দে। বললেন, “আমরা বিদ্রুপ বুঝি। কিন্তু তারও সীমা থাকা দরকার।” কৌতুক অনুষ্ঠানে এই শিন্দেকেই বিদ্রুপাত্মক ভঙ্গিতে ‘গদ্দার’ বলে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে হাস্যকৌতুক শিল্পী কুণাল কামরা। আগেই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই সোমবার সকাল ১১টায় তাঁকে তলব করেছে মুম্বইয়ের খার থানার পুলিশ।
ইতিমধ্যেই পুলিশের তরফে কুণালের মুম্বইয়ের বাড়িতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। যদিও প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে তিনি এখন মুম্বইয়ে নেই। শিবসেনার এক সমর্থকের সঙ্গে কুণালের ফোন-কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে কুণাল নিজেই বলেছেন যে, তিনি তামিলনাড়ুতে রয়েছেন। (যদিও এই ফোন রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)
‘নয়া ভারত’ নামের একটি অনুষ্ঠানে বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে বিদ্রুপাত্মক কিছু মন্তব্য করেন কুণাল। শিন্দের অবস্থান বদল নিয়েও কটাক্ষ করেন। কুণালেরই পোস্ট করা ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, একটি জনপ্রিয় হিন্দি গানের নকল করে শিন্দের অঙ্গভঙ্গি এবং শারীরিক গঠন বর্ণনা করছেন তিনি। এক জায়গায় শিন্দেকে ‘গদ্দার’ বলেও উল্লেখ করা হয়। যদিও সেখানে কোথাও কুণালকে শিন্দের নাম করতে শোনা যায়নি (এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
তার পরেই শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা সমর্থকদের রোষের মুখে পড়েন কুণাল। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, মুম্বইয়ের খার এলাকার একটি হোটেলের ভিতর থাকা ‘হ্যাবিট্যাট’ নামের স্টুডিয়োয় ওই মন্তব্য করেছিলেন কুণাল। পরে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার রাতেই হোটেলটিতে ভাঙচুর চালান উন্মত্ত শিবসৈনিকেরা। সোমবার ওই স্টুডিয়োটি ভাঙা শুরু করে বৃহন্মুম্বই পুরনিগম (বিএমসি)। দাবি, স্টুডিয়োটি জবরদখল করা জায়গার উপর তৈরি হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। তিনি কুণালকে ক্ষমা চাইতে বলে জানিয়েছেন, আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে। প্রায় একই কথা জানিয়ে মহারাষ্ট্রের আর এক উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার বলেন, “কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।” মহারাষ্ট্রের শাসকজোট মহাজুটি যখন কুণালের সমালোচনায় মুখর তখন কৌতুকশিল্পীর পাশে দাঁড়ান বিরোধী কংগ্রেস, শিবসেনা (ইউবিটি)-র নেতারা। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা উদ্ধবসেনার প্রধান উদ্ধব বলেন, “আমি মনে করি না কুণাল কামরা কোনও ভুল করেছেন। বিশ্বাসঘাতক তো বিশ্বাসঘাতকই হয়।”
বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা এই বিতর্কে মুখ খুললেও প্রথমে এই বিষয়ে নীরবই ছিলেন শিন্দে। যাঁকে ‘গদ্দার’ বলে সংবাদ শিরোনামে কুণাল, সেই শিন্দে প্রথম এই বিতর্কে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন।