খলিস্তানি নেতা গুরপতবন্ত সিংহ পন্নুন। — ফাইল চিত্র।
খলিস্তানপন্থী নেতা গুরপতবন্ত সিংহ পন্নুনকে হত্যার চেষ্টার মামলায় অভিযুক্ত ভারতের প্রাক্তন সরকারি কর্তা বিকাশ যাদবকে পৃথক এক মামলায় গত বছর গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। দিল্লিতে একটি তোলাবাজির ঘটনায় ধরা পড়েন ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা ‘র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং)-এর প্রাক্তন কর্তা বিকাশ। ওই মামলায় তাঁর কী ধরনের যোগ রয়েছে, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সোমবার দিল্লির একটি আদালতে এমনটাই জানাল পুলিশ।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার পটিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক তদন্তকারীদের প্রশ্ন করেন, কিসের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে? এর উত্তরে তদন্তকারীরা জানান, তাঁদের কাছে বিকাশের কিছু কল রেকর্ড রয়েছে। সে সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কিছু না বললেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আগামী ২২ মে পরবর্তী শুনানিতে এ নিয়ে বিশদ রিপোর্ট দেবেন তাঁরা।
গত বছর অক্টোবর মাসে আমেরিকার একটি আদালতে বিকাশের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। আদালতে মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই দাবি করে, ভারতে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত সংগঠন শিখ ফর জাস্টিস (এসএফজে)-এর নেতা পন্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বিকাশ। বিকাশকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ঘোষণা করে এফবিআই। তার সপ্তাহ দুয়েক পরেই পৃথক মামলায় বিকাশকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং অপহরণের মতো অভিযোগও ওঠে। এ ছাড়া, রোহিণীর এক বাসিন্দা অভিযোগ তোলেন, বিকাশের সঙ্গে জেলবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোইয়ের যোগ রয়েছে। বিকাশের সঙ্গে গ্রেফতার হন তাঁর সহযোগী আবদুল্লাহ খানও। দু’জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি)-র ৩০৭ (খুনের চেষ্টা), ১২০-বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৩৬৪এ (অপহরণ), ৫০৬ (হুমকি), ৩৪১ (অন্যায় ভাবে আটকে রাখা), ৩২৮ (বিষক্রিয়া) এবং অস্ত্র আইনের ২৫ এবং ২৭ নম্বর ধারার অধীনে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গত বছর ২২ মার্চ অন্তর্বর্তিকালীন জামিন পেয়েছিলেন বিকাশ।
যদিও বিকাশ গত বছরই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পাশাপাশি, পন্নুনকাণ্ডে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মোদী সরকারও। প্রসঙ্গত, অতীতে কানাডায় খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিংহ নিজ্জরের খুনের ঘটনায় ‘র’-এর ভূমিকা নিয়েও তৎকালীন জাস্টিন ট্রুডো সরকারের অভিযোগ প্রসঙ্গে একই পথে হেঁটেছিল ভারত সরকার।