প্রতীকী ছবি।
এপিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাস। কিন্তু এখনও স্কুলে পৌঁছায়নি ভাষাভিতিক পাঠ্যবই। তার ফলে শঙ্কিত শিক্ষকরা।
ভাষা শিক্ষার বই হাতে না পেলে শিক্ষকরা ক্লাসে কী পড়াবেন! এ প্রসঙ্গে শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বই ছাপার কাজ প্রায় শেষ। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যেই সমস্ত স্কুলে বই পৌঁছে যাবে।’’
বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে ৬২টি বিষয় পড়ানো হয়। তার মধ্যে ১৬টি কারিগরি বিষয় রয়েছে। শিক্ষা সংসদ অনুমোদিত টেক্সট বুক নম্বর (টিবি নম্বর) যুক্ত বই ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে বিভিন্ন স্কুলে ও বইয়ের দোকানে। তবে বাংলা, ইংরেজি-সহ ভাষা ভিত্তিক ও শারীরশিক্ষার বই এখনও হাতে পায়নি পড়ুয়ারা। কারণ, স্কুলেই এখনও আসেনি বই। শিক্ষা সংসদের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইংরেজি বই ইতিমধ্যেই ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে বাংলা-সহ অন্য ভাষার বই এখনও পর্যন্ত ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
কলেজিয়াম অফ অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, ‘‘সংসদের বাস্তবের সঙ্গে কোনও মিল নেই। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা আর কাজের মধ্যে তফাৎ রয়েছে। প্রথমত, ২ এপ্রিল থেকে তৃতীয় সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করা সম্ভব নয়। কারণ ওই সময় স্কুলগুলিতে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির প্রথম সামগ্রিক মূল্যায়ন শুরু হবে। দ্বিতীয়ত, বই না থাকলে ক্লাসে পড়ানো কী ভাবে হবে!’’
উল্লেখ্য, শুধুমাত্র ভাষাভিত্তিক বই-ই নয়, কিছুদিন আগে পর্যন্ত হাতে আসেনি শিক্ষা সংসদ অনুমোদিত অন্য পাঠ্যবইও। সদ্য স্কুলগুলিতে সেই বই পাঠানো হয়ছে। দ্য পার্ক ইনস্টিটিউশনের প্রধানশিক্ষক সুপ্রিয় পাঁজা বলেন, ‘‘বই না এলে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়বে পড়ুয়ারা। সিলেবাস শেষ করা তো দূরের কথা পাঠ্যবই ছাড়া পড়ুয়ারা ঠিক করে পড়াশোনা করবে কী করে তা ও চিন্তার বিষয়।’’
২০২৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের সিমেস্টার পদ্ধতিতে পড়াশোনা। সিমেস্টার পদ্ধতি আসার পরে পাঠ্যক্রমেও ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী তৃতীয় সিমেস্টার হবে এমসিকিউ-ভিত্তিক। এর জন্য প্রয়োজন নতুন পাঠ্যবই। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী, ‘‘এই নিয়ে অনেক আগে থেকে কাউন্সিল সভাপতিকে আমরা জানিয়েছিলাম। যথাসময়ে বই পৌঁছে যাবে বলে প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। এখনও তা না পৌঁছানোর জন্য পঠন-পাঠন শুরু করার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। দ্রুত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুনরায় দাবি জানিয়েছি।’’